সিলেট-তামাবিল সড়কে মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় তিন মাসের শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ফেরিঘাট ও বিরাইমপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে তিন মাস বয়সী শিশু আয়াতের পরিচয় জানা গেছে। সে গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং এলাকার হাসানুজ্জামানের মেয়ে। অপর দুজনের মধ্যে একজন যাত্রীবাহী বাসের কিশোরী যাত্রী এবং অন্যজন গাড়ির চালক। তাঁদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে জৈন্তাপুর উপজেলার ফেরিঘাট এলাকায় জাফলংগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সিলেটগামী পাথরবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুই গাড়ির চালকসহ অন্তত ছয়জন আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাসের এক কিশোরী যাত্রী ও এক চালকের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে সিলেট নগরের কোতোয়ালি থানাধীন পল্লবী রোডের বাসিন্দা আলী আহমদের ছেলে কাউসার (৪৮), তাঁর মেয়ে আতিশা (১০) ও ছেলে আলিফ (১৬) রয়েছেন। তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এর প্রায় পাঁচ মিনিট পর, দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে জৈন্তাপুর সদর ইউনিয়নের বিরাইমপুর এলাকায় একটি সেতুর পূর্ব পাশে দুটি প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তিন মাস বয়সী শিশু আয়াত ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এ ঘটনায় মারাজানা আক্তার (৩৫) নামে এক নারী আহত হন। তাঁকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, জাফলং থেকে ছেড়ে আসা একটি প্রাইভেট কারের সঙ্গে সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া আরেকটি প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুটির মৃত্যু হয়। আহত নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ফেরিঘাট এলাকায় বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুই চালকের অবস্থা গুরুতর ছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁদের একজন মারা যান। নিহতদের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন তামাবিল হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।