শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন নিশ্চিত করতে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৬। এর আওতাধীন আটটি জেলায় মোট ৫ হাজার ৩৫৪টি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে খুলনা জেলা ও মহানগর মিলিয়ে ৩৯৪টি পূজামণ্ডপ রয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়। ব্রিফিংয়ে বলা হয়, গত ১৩ অক্টোবর থেকে পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ টহল কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এসআরবি-৬-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, পূজামণ্ডপগুলোকে প্রথমে জেলাভিত্তিক এবং পরে উপজেলাভিত্তিক ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিজ নিজ এলাকার টহল দল নিয়ে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করছেন এবং সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রথম স্তরে টহল দল সরেজমিনে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করছে। পাশাপাশি শহর ও উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। দ্বিতীয় স্তরে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তৃতীয় স্তরে রাখা হয়েছে রিজার্ভ ফোর্স, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
এ ছাড়া পূজাকে কেন্দ্র করে অনলাইন মাধ্যমে অপপ্রচার বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এসআরবি সদর দপ্তর থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে সাইবার নজরদারির পাশাপাশি আঞ্চলিক পর্যায়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এ কার্যক্রমের লক্ষ্য।
ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, দুর্গাপূজা ঘিরে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সমন্বয় সভা সম্পন্ন হয়েছে। আয়োজক কমিটি, সাধারণ জনগণ, গণমাধ্যম এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্মিলিত সহযোগিতায় প্রতিবছরের মতো এবারও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপন সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের সূচনা হয়েছে। আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে এবারের পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে উৎসব সম্পন্ন করাই নিরাপত্তা কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য।