দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময়ের অপেক্ষা, জল্পনা আর উত্তেজনার পর গেমিং দুনিয়ায় নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে জনপ্রিয় ভিডিও গেম সিরিজ ‘গ্র্যান্ড থেফট অটো’ (জিটিএ)। সিরিজটির নতুন সংস্করণ ‘জিটিএ ৬’-এর লঞ্চ ট্রেলার প্রকাশ করেছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রকস্টার গেমস। ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই বিশ্বজুড়ে গেমারদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উচ্ছ্বাস।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ট্রেলারটি প্রকাশ করা হয়। এতে গেমটির দুই প্রধান চরিত্র জেসন ও লুসিয়ার টানাপোড়েন, অপরাধজগতের বিপজ্জনক পরিস্থিতি এবং রোমাঞ্চকর অ্যাকশনের ঝলক তুলে ধরা হয়েছে।
ট্রেলারের সংগীতেও রয়েছে বিশেষ আকর্ষণ। এতে ‘ফ্লাওয়ার ইন আ হারিকেন’ গানটি ব্যবহার করা হয়েছে। সংগীতায়োজনের সঙ্গে যুক্ত শিল্পীদের মধ্যে রয়েছে জাস্টিস, টেম ইমপালা, এসজেডএ এবং ‘কিং গিজার্ড অ্যান্ড দ্য লিজার্ড উইজার্ড’।
ট্রেলারের শুরুতে জেসনকে সামরিক বাহিনী থেকে অসম্মানজনকভাবে বিদায় নেওয়ার পর জীবনের প্রতিকূলতা নিয়ে কথা বলতে দেখা যায়। অন্যদিকে, লুসিয়ার পায়ে নজরদারির অ্যাঙ্কলেট দেখা যায়। অপরাধের জটিল পরিস্থিতিতে আটকে পড়া লুসিয়াকে আবেগঘন কণ্ঠে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা কি ঠিক থাকব?’
এরপর একের পর এক অ্যাকশন দৃশ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। কোথাও রাইফেল হাতে জেসনের পেছনে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হচ্ছে, আবার কোথাও গ্রেনেড লঞ্চার হাতে লুসিয়াকে হেলিকপ্টারে উড়তে দেখা যায়। একটি দৃশ্যে হেলিকপ্টারে শিকল দিয়ে ঝোলানো বিশাল মালামাল শহরের ভবনগুলোর কাচ ভেঙে তছনছ করে দেয়। ট্রেলারের আরেকটি দৃশ্যে জেসন ও লুসিয়াকে ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে সুইমিংপুলে পড়তে দেখা যায়।
গেমটির আনুষ্ঠানিক বিবরণে বলা হয়েছে, জেসন ও লুসিয়া শুরু থেকেই জানত পরিস্থিতি তাদের বিপক্ষে। একটি সহজ অপরাধের পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর তারা লিওনিডা অঙ্গরাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিশাল অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের জালে জড়িয়ে পড়ে। বিপজ্জনক সেই জগতে টিকে থাকতে হলে তাদের একে অপরের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে হবে।
ট্রেলার প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গেমারদের উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। প্রকাশের মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যে ইউটিউবে ট্রেলারটির ভিউ ১০ লাখ ছাড়িয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মন্তব্যের ঘরে ভক্তরা দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান নিয়ে আনন্দ প্রকাশ করছেন।
এক গেমার মন্তব্যে লিখেছেন, ‘আমি ভেবেছিলাম জীবনে হয়তো আর কোনোদিন এই মুহূর্ত দেখতে পাব না।’ আরেক ভক্তের ভাষ্য, ‘আমরা সত্যিই এখন মহাকাব্যিক সমাপ্তির একেবারে শেষ প্রান্তে!’