
লিওনেল মেসির পায়ের জাদুতে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল ইন্টার মায়ামি। নিউইয়র্ক সিটি এফসিকে ২–০ গোলে হারিয়ে ২০২৬ মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) প্লে–অফে জায়গা নিশ্চিত করেছে মায়ামি। দলের দুই গোলের একটিতে সরাসরি অবদান রেখেছেন মেসি, অন্যদিকে পুরো ম্যাচেই আক্রমণভাগে ছিলেন দলের অন্যতম ভরসা।
নু স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখলে রেখে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করে মায়ামি। ২০ মিনিটে সেই চেষ্টার ফলও আসে। লুইস সুয়ারেজের কাছ থেকে পাওয়া বল বক্সের ভেতর কাজে লাগিয়ে গোল করেন জেরমান বেরতেরেম। তাঁর গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরও মায়ামি আক্রমণের ধার কমায়নি।
প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ব্যবধান দ্বিগুণ করে সফরকারীরা। এবার গোলের নেপথ্যে ছিলেন মেসি। ডান দিক থেকে তাঁর নিখুঁত পাস পেয়ে বক্সের সামনে থেকে বল জালে পাঠান রদ্রিগো দি পল। মেসির এই অ্যাসিস্ট তাঁর ক্যারিয়ারের ৪২৭তম। গোলের পর সতীর্থের সঙ্গে তাঁর উদ্যাপনও ছিল চোখে পড়ার মতো।
এই ম্যাচে গোল না পেলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের দিক থেকে মেসি ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রে। চলতি এমএলএস মৌসুমে ২৫ ম্যাচে তাঁর গোল ২৩টি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩১ ম্যাচে করেছেন ২৭ গোল। শুধু গোল নয়, সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর ক্ষেত্রেও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন আর্জেন্টাইন তারকা। এমএলসে এ মৌসুমে তাঁর অ্যাসিস্ট ১৪টি।
সব মিলিয়ে ৩১ ম্যাচে ২৭ গোল ও ১৪ অ্যাসিস্ট—মায়ামির হয়ে ৪১টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। বয়স বাড়লেও মাঠে তাঁর প্রভাব যে কমেনি, চলতি মৌসুমের পরিসংখ্যানই তার বড় প্রমাণ।
ম্যাচের শেষ দিকে অবশ্য কিছুটা চাপের মুখে পড়ে মায়ামি। নিউইয়র্ক সিটি এফসি পেনাল্টি থেকে ব্যবধান কমানোর সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু মায়ামির গোলরক্ষক ডেইন সেন্ট ক্লেয়ার দুর্দান্ত দক্ষতায় সেই শট ঠেকিয়ে দেন। ফলে শেষ পর্যন্ত ২–০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে মায়ামি।
এই জয়ের ফলে ২৯ ম্যাচে ৫২ পয়েন্ট নিয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মায়ামি। সমান ম্যাচে ৬৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ন্যাশভিল। হাতে আরও পাঁচ ম্যাচ থাকতেই প্লে–অফ নিশ্চিত করেছে মায়ামি।
মেসি ২০২৩ সালে ক্লাবটিতে যোগ দেওয়ার পর প্রথম মৌসুমে প্লে–অফে উঠতে পারেনি মায়ামি। তবে এরপর টানা দুই মৌসুমে সেই বাধা পেরিয়েছে তারা। এবারও মৌসুমের শেষ ভাগে এসে নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত হলো মেসির অবদানে।
গত মাসে মায়ামির কোচের দায়িত্ব নেওয়া কিলি গঞ্জালেসের অধীনে এটি টানা দ্বিতীয় জয়। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন কোচের কণ্ঠেও ছিল স্বস্তির সুর। তাঁর মতে, দলের উন্নতির আরও জায়গা থাকলেও ধীরে ধীরে সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে মায়ামি।