
উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে নাটকীয় এক জয় তুলে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। রোমার মাঠে ৩–১ গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ সাত মিনিটে তিন গোল করে ৪–৩ ব্যবধানে ম্যাচ জিতেছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। ম্যাচের শেষ মুহূর্তের এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে যেন স্তব্ধ হয়ে যায় রোমের অলিম্পিক স্টেডিয়াম।
শুরু থেকেই ম্যাচে ছিল উত্তেজনা। নিজেদের মাঠে রোমা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। রিয়ালও সুযোগ তৈরি করলেও প্রথমার্ধে কাঙ্ক্ষিত নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেনি। রোমার আক্রমণের সামনে কয়েক দফায় পরীক্ষার মুখে পড়তে হয় রিয়ালের রক্ষণকে।
রিয়ালের হয়ে প্রথম গোলটি করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি ছিল ফরাসি ফরোয়ার্ডের ৭২তম গোল। একই সঙ্গে এটি ছিল প্রতিযোগিতাটিতে তাঁর ১০০তম ম্যাচ। ব্যক্তিগত এই মাইলফলককে স্মরণীয় করে রাখলেও ম্যাচের বড় নাটক তখনো বাকি।
এমবাপ্পের গোলের পর রোমা ম্যাচে আরও জোরালোভাবে ফিরে আসে। মার্টেন ডি রুন ও ডোনিয়েল মালেনের দুই গোলে তারা রিয়ালের ওপর চাপ বাড়ায়। মালেন পরে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে রোমাকে ৩–১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। ম্যাচের তখন মনে হচ্ছিল, জয়টা রোমার হাতের মুঠোয়।
কিন্তু শেষ সাত মিনিটে পুরো ম্যাচের চিত্র বদলে যায়।
৮৩ মিনিটে কার্লোস এসপি রিয়ালের হয়ে ব্যবধান কমান। গোল পাওয়ার পর আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় সফরকারীরা। রোমার রক্ষণ তখন একের পর এক চাপ সামলাতে ব্যস্ত। এরই মধ্যে আক্রমণ আরও তীব্র করে রিয়াল।
কয়েক মিনিট পর সমতা ফেরান এন্ড্রিক। ৩–৩ হওয়ার পর রোমার খেলোয়াড়দের মধ্যে তৈরি হয় স্পষ্ট অস্থিরতা। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে যোগ করা সময়ের কাছাকাছি গিয়ে রিয়ালকে এগিয়ে দেন আন্তোনিও রুডিগার। মাত্র সাত মিনিটের ব্যবধানে তিন গোল করে ৩–১ থেকে ৪–৩ ব্যবধানে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয় তারা।
শেষ বাঁশি বাজার পর রিয়ালের খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাস ছিল দেখার মতো। অন্যদিকে জয় হাতছাড়া হওয়ার হতাশায় স্তব্ধ রোমার খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা।
এই জয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে রিয়ালের মানসিক দৃঢ়তার আরেকটি নজির দেখা গেল। কোচ জোসে মরিনিওর দল ম্যাচের বড় একটি সময় পিছিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত হাল ছাড়েনি। চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো মঞ্চে এমন প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে এবারের আসরের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত হয়ে থাকবে।