সরকারের কার্যক্রমে অসহযোগিতা ও অবহেলা করছেন—এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে কোন কোন প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলছে, তা খুঁজে বের করারও পরামর্শ দিয়েছে কমিটি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কার্যক্রম সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করা হয়। ‘সবার ওপরে বাংলাদেশ’ নীতি বাস্তবায়নে সরকারের কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়ানো এবং অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন কমিটির সদস্যরা।
এ ছাড়া রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
কমিটির সভাপতি সাঈদ আহমেদ বলেন, কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আইনগত, প্রশাসনিক বা বাস্তব কোনো বাধা থাকলে তা কমিটির সামনে তুলে ধরতে হবে। প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি গোপন না করে বাস্তব পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।
তিনি নাগরিক সেবা সহজ ও দ্রুত করার পাশাপাশি প্রশাসনে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, ডিজিটাল সেবা ও তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারে নাগরিকের সময়, অর্থ ও শ্রম সাশ্রয় সম্ভব। একই সঙ্গে অনিয়মের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
সভাপতি আরও বলেন, সমস্যা সমাধানে প্রচলিত চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। সরকারি কর্মকর্তারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী—তাঁরা কোনো দল, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নন। কমিটিকে প্রতিপক্ষ না ভেবে সবার সম্মিলিত দায়িত্বের জায়গা হিসেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সাঈদ আহমেদ। এতে অংশ নেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী, এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান), শাহজাহান চৌধুরী, আমিরুল ইসলাম খান, ফখর উদ্দিন আহমেদ, রেহেনা আক্তার ও মো. নূরুল ইসলাম।
সরকারি কাজে সমন্বয়, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।