সমাজ ও রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণে ব্যক্তিপর্যায়ের দূরদর্শী ও নিঃস্বার্থ ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, “এ ধরনের মহৎ উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং অন্যদেরও জনকল্যাণমূলক কাজে এগিয়ে আসতে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সমৃদ্ধ দেশ গঠন অনেক বেশি সহজ হবে।”
বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের মাধ্যমে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তিত্ব প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতকালে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের জীবনের ত্যাগ, ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ও সামাজিক কার্যক্রমের কথা অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং তাঁদের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সাথে তাঁদের এই জনকল্যাণমুখী পথচলা অব্যাহত রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরণের সহায়তার আশ্বাস দেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু সাংবাদিকদের জানান, রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের এই সুযোগে অতিথিরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে স্থাপত্য বা প্রকৌশলে পড়াশোনা শেষ করে তিনি প্রথমে এলজিইডি-তে সহকারী প্রকৌশলী এবং পরবর্তীতে জনতা ব্যাংকে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও চটকদার সরকারি চাকরি ছেড়ে তিনি শিশুদের গড়ার পথ বেছে নেন। গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা আনন্দদায়ক করতে তিনি নিজস্ব উদ্ভাবনী শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবহার করছেন।
নরসিংদীর আলতাফ হোসেন জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার—তাঁর দুটি হাত নেই। তবে অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোর ও পা দিয়ে লেখার দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তিনি ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনা এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল’। নিজের জমানো টাকা ও পৈতৃক জমি বিক্রি করে গড়ে তোলা এই প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী এবং ১০ জন শিক্ষক রয়েছেন। সম্পূর্ণ কাজই তিনি পা দিয়ে পরিচালনা করেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর অদম্য সংগ্রামের গল্প শুনে স্কুলটির জন্য একটি আধুনিক নতুন ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
ভোলার চরফ্যাশনের বাসিন্দা রেজাউল কিবরিয়া বাবুল পেশায় একজন ইমাম। গত প্রায় তিন দশক ধরে তিনি নিজের উপার্জিত অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে এলাকার বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ রোপণ করেছেন। নিজস্ব পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে তিনি প্রথমে একটি নার্সারি গড়ে তোলেন এবং সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন স্থানে রোপণ করেন। আজ তাঁর লাগানো বহু বৃক্ষ পথচারীদের ক্লান্তি দূর করার মায়াবী ছায়া দিচ্ছে।
সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের সকল ইতিবাচক কাজ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং দেশ পুনর্গঠনে তাঁদের মতো নিবেদিতপ্রাণ মানুষের উপস্থিতি অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন।