হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ দেশের সকল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও সাম্য প্রতিষ্ঠায় স্ব-স্ব সম্প্রদায়ের যোগ্য প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করে একটি শক্তিশালী ‘জাতীয় কমিটি’ গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি নিয়ে সমন্বিত জাতীয় কমিটি গঠিত হলে তাদের নানাবিধ সংকট, সমস্যা ও যৌক্তিক দাবিদাওয়াগুলো সুসংগঠিতভাবে সরকারের কাছে তুলে ধরা অনেক বেশি সহজ ও কার্যকর হবে।
বুধবার দুপুরে বঙ্গভবনে ‘বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের’ সভাপতি ও ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারের মহাধ্যক্ষ শ্রীসদ্ধম্মসাসনধ্বজ বুদ্ধপ্রিয় মহাথেরর নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বৈঠকের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।
বৈঠককালে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃগোষ্ঠীবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকারও উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের তরুণ ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানান, যেন তারা সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে কোনোভাবেই পিছিয়ে না পড়ে। এ ক্ষেত্রে বৌদ্ধ সমাজের শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বদের অগ্রণী ভূমিকা পালনের অনুরোধ করেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বিদ্যমান নানা সমস্যা ও বিষয়াদি রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করেন এবং তাঁদের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক-ধর্মীয় কার্যক্রম তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপতি সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দিয়ে বলেন, “দেশের সকল নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা ও বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলতে বর্তমান প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”
প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে আগামী নভেম্বরে কমলাপুরের ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে আয়োজিতব্য মহাসমারোহে ‘কঠিন চীবরদান’ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতিকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানানো হয়। রাষ্ট্রপতি সদ্ব্যবহার প্রদর্শন করে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার ইতিবাচক আশ্বাস প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদলে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সুশীল চন্দ্র বড়ুয়া, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি পার্থ প্রতিম বড়ুয়া, বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সহ-সভাপতি রণজিৎ কুমার বড়ুয়া, জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ফোরামের সভাপতি দিলীপ কুমার বড়ুয়া, ধর্মরাজিক মহাবিহারের উপাধ্যক্ষ সুমিত্তানন্দ ভিক্ষু ও রীটন কান্তি বড়ুয়াসহ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বরেণ্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব বঙ্গভবনের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।