সরকারি চাকরিতে ৫ লাখের বেশি পদ শূন্য, নিয়োগে স্বল্প-মধ্য-দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

ভোরের ডাক ডেস্ক

জাতীয়

দেশের সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনুমোদিত পদের মধ্যে ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২টি পদ শূন্য রয়েছে। মোট অনুমোদিত পদের প্রায় ২৬

2026-10-14T20:18:46+00:00
2026-10-14T20:18:46+00:00
  বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬,
৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
 
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
জাতীয়
সরকারি চাকরিতে ৫ লাখের বেশি পদ শূন্য, নিয়োগে স্বল্প-মধ্য-দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
ভোরের ডাক ডেস্ক
বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৮ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
দেশের সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনুমোদিত পদের মধ্যে ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২টি পদ শূন্য রয়েছে। মোট অনুমোদিত পদের প্রায় ২৬ দশমিক ২৯ শতাংশই ফাঁকা। এসব পদ পূরণে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকের জন্য তৈরি মন্ত্রণালয়ের এক নথিতে এ তথ্য উঠে এসেছে। কমিটির প্রথম বৈঠকের কার্যপত্রের সঙ্গে নথিটি উপস্থাপন করা হয়।

নথি অনুযায়ী, দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে মোট অনুমোদিত পদ ১৯ লাখ ৮৬ হাজার ২৭২টি। এর বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫০ জন। ফলে শূন্যপদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২টিতে।

শূন্যপদ পূরণে সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে ২ হাজার ৮৭৯টি পদ পূরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২ হাজার ৬১টি পদ পূরণ করা হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

নথির তথ্য অনুযায়ী, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও তাঁদের অধীন কার্যালয়গুলোতে অনুমোদিত পদ ৪১ হাজার ৭৫৫টি। এর মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ২৭ হাজার ১৭৭ জন। ফলে এসব কার্যালয়ে শূন্যপদ রয়েছে ১৪ হাজার ৫৭৮টি।

অন্যদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব জনবল কাঠামোতেও শূন্যপদ রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত ৬২৯টি পদের বিপরীতে কর্মরত ৫০৫ জন। শূন্য রয়েছে ১২৪টি পদ।

সরকারি চাকরিতে নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি, প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তর-সংস্থার জনবল কাঠামো হালনাগাদ করা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অন্যতম দায়িত্ব। নথিতে জনবল কাঠামো ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা হালনাগাদের পাশাপাশি সরকারি কর্মচারী ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যারের মাধ্যমে তথ্য সংরক্ষণ ও হালনাগাদের কার্যক্রমের কথাও উল্লেখ রয়েছে।

তবে কোন মন্ত্রণালয় বা বিভাগে কতটি পদ শূন্য, এসব পদ পূরণে কতজন নিয়োগ দেওয়া হবে এবং পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করার নির্দিষ্ট সময়সীমা কী—তা নথিতে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

স্থায়ী কমিটির সদস্য রেহেনা আক্তার রানু বলেন, শূন্যপদগুলো দ্রুত পূরণের বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে শুরু হওয়া কিছু প্রকল্পের অগ্রগতি এখনো ৭ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।

বৈঠকে সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া ৪৯তম বিশেষ বিসিএস নিয়েও আলোচনা হয়। সূত্র জানায়, জামায়াতের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল একজন প্রার্থীর নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। মেধাতালিকায় ১১৯তম অবস্থানে থাকা ওই প্রার্থীকে শিবিরসংশ্লিষ্টতার অভিযোগে প্রথমে চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়া হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই, গোয়েন্দা প্রতিবেদন এবং দেওয়ানি ও ফৌজদারি-সংশ্লিষ্ট বিষয় বিবেচনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চাওয়া হয়।

তবে কমিটির সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ দাবি করেন, ওই সংসদ সদস্যের অভিযোগের ভিত্তি নেই।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর ৪৯তম বিশেষ বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারের প্রবেশ পদে ৬১১ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সরকারি কর্ম কমিশনের সুপারিশপ্রাপ্ত ৬৬৮ জনের মধ্যে ৫৭ জনের নাম ওই প্রজ্ঞাপনে ছিল না। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে তিনজন প্রয়োজনীয় সনদ জমা দেননি এবং আটজন স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উপস্থিত হননি। এ নিয়ে বিতর্কের পর ৫ অক্টোবর আরও ৪০ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

বৈঠকে জনপ্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে সরকারি কাজে অসহযোগিতাকারীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়। তবে শুধু দলীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে শাস্তি দেওয়া উচিত নয় বলে মত উঠে আসে। ওএসডি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও তাঁদের ভূমিকা ও অবস্থান বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে কমিটির সভাপতি সাঈদ আহমেদ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আইনগত, প্রশাসনিক বা বাস্তব কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকলে তা স্পষ্টভাবে কমিটির সামনে তুলে ধরার নির্দেশনা দেন। প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রাসঙ্গিক নথি উপস্থাপনের পাশাপাশি অনিয়মের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

কমিটির সভাপতি বলেন, জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা কোনো দল, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নন; তাঁদের কাজ দেশ ও জনগণের স্বার্থে।

বৈঠকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ধীরগতির প্রকল্পগুলোর কারণ অনুসন্ধান এবং সরকারি কাজে অসহযোগিতা বা অবহেলাকারীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।


Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: