বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের মাস্টারপ্ল্যান ২০৫০ পর্যালোচনা এবং বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্পের অগ্রাধিকার নির্ধারণে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর সেতু ভবনে আয়োজিত এ কর্মশালায় বিদ্যমান পরিকল্পনা হালনাগাদ, উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ।
কর্মশালার শুরুতে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত পরিচালক (প্রশাসন) মো. হাবিবুর রহমান উপস্থিত ব্যক্তিদের স্বাগত জানান। স্বাগত বক্তব্যে চিফ ইঞ্জিনিয়ার আবুল হোসেন বলেন, একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রকল্পের অর্থায়ন নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মাস্টারপ্ল্যান হালনাগাদ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়ন কাজে লাগিয়ে পরিকল্পনাকে বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য করে তোলা জরুরি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, নতুন সরকারের উন্নয়ন-অভিপ্রায়ের সঙ্গে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটাতে হবে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও উন্নয়ন অগ্রাধিকার বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে, যাতে সেগুলো দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, পদ্মা ও যমুনা সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। তবে কর্ণফুলী টানেলের মতো কিছু প্রকল্পে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে সেতু বিভাগের সচিব বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) এবং সাসেক (SASEC)-এর মতো উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলমান প্রকল্প বাস্তবায়ন ও নতুন প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং বিদ্যমান তহবিলের কার্যকর ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
কর্মশালায় ঢাকায় প্রস্তাবিত এলিভেটেড ইনার সার্কুলার রোডের (ইস্ট-ওয়েস্ট) সম্ভাবনা ও বাস্তবায়ন-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যথাযথভাবে পর্যালোচনার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি হাওর অঞ্চলে সমন্বিত যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সম্ভাবনা যাচাইয়ে সমীক্ষা পরিচালনার কথা বলেন প্রধান অতিথি। প্রয়োজনে এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষকে আরও কার্যকর ও গতিশীল প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মেধা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান সেতু বিভাগের সচিব। তিনি মাস্টারপ্ল্যান হালনাগাদ করে বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্পের অগ্রাধিকার নির্ধারণ, অর্থায়নের সম্ভাব্য উৎস চিহ্নিতকরণ এবং বিভিন্ন সংস্থার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্যে সমন্বয় সাধনের নির্দেশনা দেন।
কর্মশালায় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক আলতাফ হোসেন শেখ সম্ভাব্য অর্থায়নের উৎস অনুসন্ধান এবং মাস্টারপ্ল্যান হালনাগাদের জন্য পৃথক দল গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কর্মশালায় আলোচনার ভিত্তিতে মাস্টারপ্ল্যান হালনাগাদ, উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি, অর্থায়নের নতুন উৎস অনুসন্ধান এবং সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রকল্প নির্বাচন ও বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।