কিশোর গ্যাং, মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে উপজেলার কাঞ্চনা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী এন.এ. চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে সচেতনতামূলক র্যালিটি বের হয়ে এলাকার প্রধান সড়ক ও ফুলতলা বাজার স্টেশন প্রদক্ষিণ করে। পরে র্যালিটি বিদ্যালয় মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে মাদক, কিশোর গ্যাং ও ইভটিজিংয়ের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক অপু দত্তের সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি খোরশেদ আলম। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব দাস পুরকায়স্থ। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও রাজীব দাস পুরকায়স্থ বলেন, কিশোর অপরাধ ও ইভটিজিং শুধু আইনি সমস্যা নয়, বরং গুরুতর সামাজিক ব্যাধি। কিশোর-তরুণদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এসব অপরাধ ও অপসংস্কৃতি প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসন শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করেছে। সন্তানদের জন্য নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
প্রধান আলোচক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের প্রভাব থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। শিক্ষার্থীরা যেন অপরাধচক্রে জড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য অভিভাবকদের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। কিশোর গ্যাং কিংবা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। অপরাধসংক্রান্ত তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল আলীম বলেন, ইভটিজিং প্রতিরোধে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের সামনে কিংবা যাতায়াতের পথে ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো সমস্যায় পড়লে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের হোয়াটসঅ্যাপে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার পাশাপাশি সরাসরি থানা পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নুল আবেদীন। এ ছাড়া বক্তব্য দেন অভিভাবক সদস্য আবুল কালামসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। র্যালি ও আলোচনা সভায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।