অভাবের বোঝা এতটাই ভারী ছিল যে, তা লাঘব করতে নিজের শরীরের একটি কিডনি বিক্রি করে দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার ছামছুল ইসলাম (৩০)। বিনিময়ে পেয়েছিলেন পাঁচ লাখ টাকা। কিন্তু তাতেও ঘোচেনি অভাব। এরই মধ্যে ট্রান্সফরমার চুরির মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনি। তাঁর কিডনি বিক্রির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে ছামছুলকে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। এর আগে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার মাত্রাই বাজার থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি শাইলগুন গ্রামের সামসুদ্দিন মন্ডলের ছেলে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে ছামছুল জানিয়েছেন, প্রায় এক মাস আগে দুবাই হয়ে ইরানে যান তিনি। সেখানে একটি হাসপাতালে নিজের বাম পাশের কিডনি পাঁচ লাখ টাকায় বিক্রি করেন বলে দাবি করেন। চট্টগ্রামে কাজ করার সময় মাসুম নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে ওই ব্যক্তির মাধ্যমে কিডনি ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ হয়। পাসপোর্ট-ভিসার ব্যবস্থা করে তাঁকে ইরানে নেওয়া হয় বলেও জানান তিনি।
ছামছুলের দাবি, তাঁর কিডনি এক নারী ব্যবসায়ীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, গ্রেপ্তারের সময় ছামছুলের কাছে ইরানের এক চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন পাওয়া যায়। তাঁর শরীরের বাম পাশেও অস্ত্রোপচারের দাগ দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম বলেন, ট্রান্সফরমার চুরির মামলায় ছামছুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাঁর কিডনি বিক্রির বিষয়টি জানা যায়। অবৈধভাবে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত দালালদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
অভাব থেকে মুক্তির আশায় নিজের শরীরের অঙ্গ বিক্রির এমন দাবি স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তবে কিডনি বিক্রির ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।