
চালকদের ভাষ্য, গতকাল মঙ্গলবার মধ্যরাতে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বুধবার কোনো অটোরিকশা গ্যারেজ থেকে বের না করার জন্য চালকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
বুধবার সকাল থেকে সাভারের বিভিন্ন পয়েন্টে চালকদের দলবদ্ধভাবে অবস্থান নিতে দেখা যায়। তাঁদের কেউ কেউ লাঠি হাতে অবস্থান করেন। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়ক ও লেনে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ রাখার চেষ্টা করছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের দাবি, আগামী তিন দিন এ আন্দোলন চলবে।
এদিকে সড়কে অটোরিকশা চলাচল করতে দেখলে সেগুলো থামিয়ে যাত্রী নামিয়ে দেওয়া এবং চাকার হাওয়া ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে। কয়েকটি অটোরিকশা আটকে রাখার ঘটনাও ঘটেছে। তবে অন্য যানবাহন চলাচলে তাঁদের বাধা দিতে দেখা যায়নি।
সকালে সাভারের বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনরত ও কর্মবিরতি পালন করা কয়েকজন চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে এসব এলাকার গ্যারেজে প্রতিটি অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জসহ দৈনিক ১৫০ টাকা নেওয়া হতো। তাঁদের অভিযোগ, গত দেড় বছরে বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধির অজুহাতে কয়েক দফায় গ্যারেজভাড়া বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার ভাড়া বাড়িয়ে ২৫০ টাকা নির্ধারণ করেন গ্যারেজমালিকেরা।
আন্দোলনরত চালক মো. আলম, ফরহাদসহ অন্যরা জানান, অবিলম্বে বর্ধিত গ্যারেজভাড়া প্রত্যাহার করতে হবে। বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যৌক্তিক হারে গ্যারেজভাড়া নির্ধারণের পাশাপাশি যাত্রী পরিবহনের ভাড়াও বাড়াতে হবে।
বেলা ১১টা পর্যন্ত সাভার পৌর এলাকার ব্যাংকটাউন, কাতলাপুর, গেন্ডা, উলাইল ও তালবাগসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এসব সড়কে অটোরিকশা চলাচল করতে দেখা যায়নি।
তবে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে কিছু অটোরিকশাকে যাত্রী পরিবহন করতে দেখা যায়। মহাসড়কের উলাইল স্ট্যান্ডে আন্দোলনকারীদের কয়েকটি অটোরিকশা থামিয়ে যাত্রী নামিয়ে দিতে দেখা গেছে। এ সময় কয়েকটির চাকার হাওয়া ছেড়ে দেওয়া হয়। যাত্রী পরিবহনের কারণে কয়েকজন চালককে মারধরের ঘটনাও ঘটে বলে ঘটনাস্থলে দেখা যায়।
প্রতিবেদন তৈরির সময় সাভারের বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের অবস্থানস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি চোখে পড়েনি।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান, অটোরিকশা আটকে চাকার হাওয়া ছেড়ে দেওয়া কিংবা চালকদের মারধরের বিষয়ে তাঁরা এখনো কোনো তথ্য পাননি। এ ধরনের অভিযোগ পেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
ওসি আরও বলেন, চালকেরা তাঁদের জানিয়েছেন, তাঁরা ঐক্যবদ্ধভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছেন। তারপরও আন্দোলনের পেছনে অন্য কোনো গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা বা অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।