আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে নৌপথে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৬টি নির্দেশনা জারি করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। নির্দেশনায় রাতে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ, ফিটনেসবিহীন লঞ্চ-নৌযান ও ফেরি চলাচল নিষিদ্ধ এবং যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের টিএ শাখা থেকে এসব নির্দেশনা জারি করা হয়।
নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের সব নদীবন্দর ও ঘাটে নিরাপদ নৌযাত্রা নিশ্চিত করতে হবে। লঞ্চে যাত্রী ওঠা-নামা করাতে হবে কেবল টার্মিনালের পন্টুন দিয়ে। সদরঘাটে লঞ্চের পেছনে বা পাশে এবং নদীর মাঝপথে নৌকা কিংবা ট্রলারের মাধ্যমে যাত্রী ওঠা-নামা বন্ধ করতে বলা হয়েছে। একইভাবে কেরানীগঞ্জের দিক থেকেও লঞ্চের সঙ্গে নৌকা বা ট্রলার ভিড়িয়ে যাত্রী পারাপার বন্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে সরকার অনুমোদিত ভাড়ার তালিকা নদীবন্দর, টার্মিনাল, ঘাট ও নৌযানের দৃশ্যমান স্থানে টাঙাতে হবে। সদরঘাট টার্মিনালের প্রবেশমুখে কোন পন্টুন থেকে কোন রুটের লঞ্চ ছাড়বে, সেই তথ্যও প্রদর্শন করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি টার্মিনাল এলাকা অবৈধ পার্কিংমুক্ত রাখতে হবে।
স্পিডবোটের ক্ষেত্রে রাতে চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দিনের বেলায় স্পিডবোট নদীর মাঝখান দিয়ে চলাচল করতে পারবে না। এ ছাড়া স্পিডবোটের যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট পরা নিশ্চিত করতে হবে।
নির্দেশনায় অভ্যন্তরীণ নৌপথে ফিটনেসবিহীন লঞ্চ, নৌযান ও ফেরি চলাচল বন্ধ করতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে নৌপরিবহন অধিদপ্তর। সদরঘাট টার্মিনাল ও পন্টুন হকার এবং ক্যানভাসারমুক্ত রাখতে হবে। দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত উদ্ধারকাজ পরিচালনার জন্য উদ্ধারকারী নৌযান প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি ঢাকা নদীবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দর এলাকায় অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
ফেরিরুট ও নৌ-চ্যানেলের নাব্যতা বজায় রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। ফেরিতে অনুমোদিত সংখ্যক যানবাহন সিরিয়াল অনুযায়ী ওঠানো নিশ্চিত করতে কন্ট্রোল গেট স্থাপন ও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। অনুমতি ছাড়া কোনো যানবাহন ফেরিতে ওঠানো যাবে না। ফেরিতে ওঠার সময় চালক ছাড়া অন্য যাত্রীদের যানবাহন থেকে নেমে ফেরিতে ওঠার ব্যবস্থা করতে হবে। এ বিষয়ে ফেরিঘাটে দৃশ্যমান বিলবোর্ড স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সংকেত অনুসরণ করে সতর্কতার সঙ্গে নৌযান পরিচালনা করতে বলা হয়েছে। আবহাওয়ার অবস্থা জানতে প্রয়োজনে আবহাওয়া অধিদপ্তরের হটলাইন ১০৯০ অথবা ০২-৪১০২৫৭৩০ ও ০২-৪১০২৫৭৩১ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে সব অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরে বিশুদ্ধ পানীয় জল, পয়ঃনিষ্কাশন, মোবাইল ফোন চার্জিং এবং শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। নারী, শিশু ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রীদের চলাচল ও পারাপারে বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করার নির্দেশনাও রয়েছে।
এ ছাড়া নৌপথে যাত্রীদের নিরাপত্তাসংক্রান্ত জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য চারটি হটলাইন নম্বর লঞ্চ ও অন্যান্য নৌযানের দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন এবং এ বিষয়ে ব্যাপক প্রচার চালাতে বলা হয়েছে।
দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নৌপথে যাত্রীদের নিরাপদ চলাচল, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতেই এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।