সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৩ পিএম আপডেট: ১২.১০.২০২৬ ৩:৩০ পিএম
প্রতীকী ছবিইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন পাঁচ ধাপে আয়োজনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে নির্বাচন। পঞ্চম ও শেষ ধাপের ভোট হবে ২৭ মে। প্রথম ধাপে ৮০টি উপজেলার ৮১৫টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে কমিশন সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে সকাল সাড়ে ১০টায় নির্বাচন ভবনে কমিশন সভা শুরু হয়। সভায় চার নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পাঁচ ধাপে ভোটের তারিখ
ইসির ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি, দ্বিতীয় ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপে ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপে ১৩ মে এবং পঞ্চম ধাপে ২৭ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
সব ধাপের ভোট বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
তিনি বলেন, দেশে প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে আনুমানিক চার হাজার ৩০০টি নির্বাচন উপযোগী রয়েছে। এসব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন ২৭ মে-র মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও কেন্দ্রীয়ভাবে তফসিল ঘোষণা করবে না কমিশন। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা ভোটগ্রহণের ৩৮ থেকে ৪২ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করবেন।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, প্রতিটি ধাপে সব জেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ক্ষেত্রে উপজেলা সদরসংলগ্ন ইউনিয়নগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। যেসব ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপযোগী হবে, সেগুলোও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি ইংরেজি বর্ণানুক্রম অনুসারে উপজেলাগুলোর নির্বাচন বিভিন্ন ধাপে সমন্বয় করা হবে।
নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করা হবে বলেও জানান তিনি।
অন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা
ইউনিয়ন পরিষদের পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভার নির্বাচন নিয়েও আলোচনা করবে কমিশন। এসব বিষয়ে পরবর্তী কমিশন সভায় আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
নভেম্বর থেকে স্মার্ট কার্ড ছাপানোর পরিকল্পনা
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, আগামী নভেম্বর থেকে পার্সোনালাইজেশন সেন্টারে পূর্ণ সক্ষমতায় স্মার্ট কার্ড ছাপানোর কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি অডিট আপত্তিসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে কমিটির মাধ্যমে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মৃত ভোটারদের নাম বাদ দিতে পাইলট প্রকল্প
ভোটার তালিকা থেকে মৃত ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে পাইলট প্রকল্প চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ইসি।
নির্বাচন কমিশনার জানান, পরিবার থেকে তথ্য পেতে বিলম্বসহ বিভিন্ন কারণে মৃত ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিতে দেরি হয়। এ সমস্যা সমাধানে অন্যান্য উৎস থেকেও তথ্য সংগ্রহ করে নির্ধারিত সময়ে মৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
প্রাথমিকভাবে কয়েকটি উপজেলা ও ইউনিয়নে এ প্রকল্প চালু করা হবে। প্রকল্পটি সফল হলে পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলায় এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
ইভিএম ব্যবস্থাপনায় দ্রুত সিদ্ধান্ত
আগামী নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে না বলে কমিশনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
তিনি জানান, বর্তমানে থাকা ইভিএমগুলোর নিষ্পত্তি বা অপসারণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংশ্লিষ্ট বিষয়সহ বিভিন্ন আইনি জটিলতা রয়েছে। সেগুলো নিষ্পত্তি করে দ্রুত ইভিএমগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ চলছে।
ইসির ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, নির্ধারিত পাঁচ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।