পুরান ঢাকার বুড়িগঙ্গার তীরে দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের সাক্ষী আহসান মঞ্জিল। গোলাপি রঙের প্রাসাদ, রাজকীয় স্থাপত্য আর নবাব পরিবারের স্মৃতিচিহ্ন দেখতে প্রতিদিনই সেখানে আসেন দর্শনার্থীরা। কিন্তু প্রাসাদের একটি গ্যালারিতে রাখা পাঁচটি লোহার সিন্দুকের সামনে দাঁড়ালে ইতিহাসের সঙ্গে মিশে যায় রহস্যও। একসময় নবাব পরিবারের অর্থসম্পদ ও মূল্যবান সামগ্রী সংরক্ষণের কাজে ব্যবহৃত এসব সিন্দুকের তিনটি এখনো খোলা হয়নি।
সিন্দুকগুলোর ভেতরে কি সোনা, হীরা কিংবা মূল্যবান অলংকার রয়েছে? নাকি সেগুলোও অন্য দুটির মতো শূন্য? প্রশ্নটির নিশ্চিত উত্তর আজও অজানা। তবে পুরোনো নথি, সরকারি কমিটির অনুসন্ধান ও সংবাদপত্রের প্রতিবেদন থেকে সিন্দুকগুলোর অতীত সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য জানা যায়। সেগুলো বলছে, অন্তত একটি সিন্দুক খোলার ঘটনা ঘিরে ১৯৮৭ সালে পুরান ঢাকায় ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছিল।
পাঁচ সিন্দুকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে শত বছরের প্রশ্ন
আহসান মঞ্জিল জাদুঘরের ৯ নম্বর গ্যালারিতে রাখা পাঁচটি লোহার সিন্দুকের আকার এক রকম নয়। সবচেয়ে বড়টির উচ্চতা ২৫৪ সেন্টিমিটার এবং প্রস্থ ১৪৮ সেন্টিমিটার। এতে রয়েছে ৯৪টি লকার বা দেরাজ। অন্য চারটি তুলনামূলক ছোট। এর মধ্যে তিনটির উচ্চতা ১৮০ সেন্টিমিটার ও প্রস্থ ৬৫ সেন্টিমিটার। বাকি সিন্দুকটির উচ্চতা ১৮০ সেন্টিমিটার এবং প্রস্থ ৯৯ সেন্টিমিটার।
দেখতে ভারী ও মজবুত এসব সিন্দুকের গায়ে সময়ের ছাপ থাকলেও এগুলো এখনো ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে। জাদুঘরের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিন্দুকগুলোর তালাব্যবস্থা বেশ জটিল। সেগুলো কবে আহসান মঞ্জিলে আনা হয়েছিল, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
তবে সিন্দুকের গায়ে খোদাই করা তথ্য ও জাদুঘরের নিবন্ধন খাতায় প্রস্তুতকারক হিসেবে যুক্তরাজ্যের ‘চাব্স’ (Chubb)-এর নাম পাওয়া যায়। কলকাতার ‘দ্য থমসন অ্যান্ড কোং’ ছিল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান।
চাব্সের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ইতিহাস অনুযায়ী, ১৮১৮ সালে চার্লস ও জেরেমিয়া চাব্ ভিন্ন ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা তৈরির কাজ শুরু করেন। ১৮৩৫ সালে তাঁরা চোর প্রতিরোধী সিন্দুকের নকশা ও পেটেন্টের সঙ্গে যুক্ত হন। ফলে নবাববাড়ির সিন্দুকগুলোর নির্মাতা হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানের নাম পাওয়া যাওয়াটা ঐতিহাসিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। তবে সিন্দুকগুলো ঠিক কোন সালে তৈরি হয়েছিল, তা শুধু নির্মাতার নাম থেকে নিশ্চিত করা যায় না।
নবাবদের প্রাসাদ, সম্পদ ও ক্ষমতার ইতিহাস
আহসান মঞ্জিলের ইতিহাস বুঝতে হলে ফিরে তাকাতে হয় ঊনবিংশ শতাব্দীর ঢাকার দিকে। বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার নবাব পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা খাজা আলীমুল্লাহ ১৮৩০ সালে বুড়িগঙ্গার তীরে ফরাসিদের কাছ থেকে একটি কুঠিবাড়ি কিনে নেন। পরে সেটি সংস্কার করে বাসভবনে পরিণত করেন। তাঁর ছেলে খাজা আবদুল গণি সেখানে নতুন প্রাসাদ নির্মাণের উদ্যোগ নেন এবং নিজের ছেলে খাজা আহসানউল্লাহর নামে ভবনটির নাম রাখেন আহসান মঞ্জিল।
১৮৫৯ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ১৮৭২ সালে শেষ হয়। প্রাসাদটি একসময় শুধু বসবাসের জায়গা ছিল না; এটি ছিল নবাব পরিবারের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড, জমিদারি পরিচালনা এবং সামাজিক প্রভাবেরও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
ঊনবিংশ শতাব্দীতে ঢাকার নবাব পরিবার বিপুল জমিদারি, ব্যবসা ও সম্পদের মালিক ছিল। ফলে অর্থ, দলিলপত্র, অলংকার ও মূল্যবান সামগ্রী নিরাপদে রাখার জন্য শক্তিশালী সিন্দুকের প্রয়োজন থাকা অস্বাভাবিক নয়। জাদুঘরের কর্মকর্তাদের ধারণা, সিন্দুকগুলো সেই সময়েই মূল্যবান সম্পদ সংরক্ষণের জন্য আনা হয়েছিল। তবে কোন সিন্দুকে কী রাখা হতো, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তালিকা পাওয়া যায়নি।
পরবর্তী সময়ে নবাব পরিবারের আর্থিক অবস্থার অবনতি ঘটে। ১৯৫২ সালে জমিদারি উচ্ছেদ আইনের আওতায় ঢাকা নওয়াব এস্টেট অধিগ্রহণের পর প্রাসাদের আগের জৌলুশও কমতে থাকে। একসময় সংস্কারের অভাবে ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। পরে সরকার এটি সংরক্ষণ ও জাদুঘরে রূপান্তরের উদ্যোগ নেয়। ১৯৮৫ সালে সরকার আহসান মঞ্জিল অধিগ্রহণ করে এবং সংস্কারকাজ শেষে ১৯৯২ সালে জাদুঘর হিসেবে এটি উদ্বোধন করা হয়।
১৯৮৭: বন্ধ কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসে সিন্দুকের গল্প
আহসান মঞ্জিলের সিন্দুকগুলোর ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় শুরু হয় ১৯৮৭ সালে। প্রাসাদের বিভিন্ন সামগ্রী শনাক্ত ও তালিকাভুক্ত করতে ভূমি মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করেছিল। ওই বছরের মে মাসে তোশাখানা ও ক্রোকারিজ কক্ষ নামে পরিচিত একটি বন্ধ কক্ষে প্রবেশের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
জাদুঘরের নথি অনুযায়ী, কক্ষটির দরজা ছিল লোহার। জানালাগুলোও দেয়াল তুলে বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। একটি প্রবেশপথে লোহার গরাদ থাকায় সেটি কেটে ভেতরে ঢুকতে হয়। ১৮ মে ১৯৮৭ সালে সেখানে পাওয়া যায় বড় আকারের লোহার সিন্দুকটি।
কিন্তু সিন্দুকের চাবি পাওয়া যায়নি। ফলে ভেতরে কী আছে, তা জানার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হয়। প্রথমে গ্যাস কাটার ব্যবহার করে একটি অংশ খোলা হয়। ৯৪টি লকারের মধ্যে ৯৪ নম্বর লকারটি পরীক্ষা করে কিছু পাওয়া যায়নি। এরপর কাজ বন্ধ রেখে কক্ষটি সিলগালা করা হয় এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
সিন্দুকের ভেতরে গুপ্তধন রয়েছে কি না, তা নিয়ে তখন নানা আলোচনা শুরু হয়। সংবাদপত্রেও খবরটি গুরুত্ব পায়। ১৯ মে ১৯৮৭ সালে দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক ইনকিলাবে সিন্দুক খোলার খবর প্রকাশিত হয়। ইনকিলাবের প্রতিবেদনে সিন্দুকের ভেতরে মূল্যবান রত্ন থাকার সম্ভাবনা ঘিরে মানুষের কৌতূহলের কথা উঠে আসে।
তবে প্রথমবারের প্রচেষ্টায় সিন্দুকের সব লকার পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তাই ভেতরে আসলে কী আছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
১১ সদস্যের কমিটি, কয়েক দিনের অনুসন্ধান
সিন্দুকের ভেতরে গুপ্তধন থাকার গুঞ্জন ও জনমনে তৈরি হওয়া কৌতূহলের মধ্যে ২৪ মে ১৯৮৭ সালে সরকার উচ্চপর্যায়ের ১১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্যকে কমিটির সভাপতি করা হয়। ভূমি প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, জাতীয় জাদুঘর ও বুয়েটের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুসন্ধানে যুক্ত হন।
কমিটি ২৫ ও ২৭ মে এবং ১ ও ২ জুন সিন্দুক খোলার কাজ করে। প্রথমে চাবি তৈরি করে খোলার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। পরে ৮৫ নম্বর লকারে ড্রিল মেশিন দিয়ে ছিদ্র করে দেখা হয়, সেটির ভেতরেও কিছু নেই।
এভাবে সামনের দিক দিয়ে সিন্দুক খোলার চেষ্টা করতে গিয়ে কাঠামোর ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এরপর পেছনের দিক থেকে লকারগুলো পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিকল ও বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে পেছনের লোহার পাত ও কাঠামো খুলে পরীক্ষা করে দেখা যায়, প্রতিটি লকারই খালি।
অর্থাৎ, বহুল আলোচিত সিন্দুকটির ভেতরে সোনা, হীরা বা অন্য কোনো মূল্যবান সম্পদ পাওয়া যায়নি। তবে এই ফলাফল শুধু ওই সিন্দুকটির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য; অন্য তিনটি তালাবদ্ধ সিন্দুকের ভেতরের অবস্থা সম্পর্কে এটি কোনো প্রমাণ দেয় না।
সিন্দুকটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় সেটি মেরামত করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়। পরে অভিজ্ঞ মিস্ত্রির সহায়তায় সিন্দুকটি মেরামত করা হয়।
১৯৯১ সালে খোলা হয় আরেকটি সিন্দুক
১৯৮৭ সালে একটি সিন্দুকের ভেতর কিছু না পাওয়ার পরও বাকি সিন্দুকগুলোর বিষয়ে কৌতূহল শেষ হয়নি। জাদুঘরের নথি অনুযায়ী, ১৯৯১ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে আরও একটি সিন্দুক খোলা হয়। সেখানেও মূল্যবান কিছু পাওয়া যায়নি।
এরপর বাকি তিনটি সিন্দুক আর খোলা হয়নি। ফলে পাঁচটির মধ্যে দুটি খোলার অভিজ্ঞতা থেকে যা জানা গেছে, তা হলো—সেগুলোর ভেতরে মূল্যবান সম্পদ পাওয়ার কোনো প্রমাণ মেলেনি। কিন্তু অবশিষ্ট তিনটি সিন্দুকের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
১৯৮৭ সালের ২৮ নভেম্বর ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয় প্রতীকী মূল্যে সিন্দুকগুলো বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরকে দেয়। নথিতে বড় সিন্দুকটির মূল্য ২৭ হাজার টাকা, মাঝারি সিন্দুকটির ১০ হাজার টাকা এবং বাকি তিনটির প্রতিটির মূল্য ৫০০ টাকা নির্ধারণের কথা উল্লেখ রয়েছে।
এই মূল্য ছিল নিদর্শন হস্তান্তরের প্রশাসনিক মূল্য; সিন্দুকের ভেতরে থাকা কোনো সম্পদের মূল্যায়ন নয়।
তিনটি সিন্দুক কেন এখনো খোলা হয়নি?
তিনটি সিন্দুকের ভেতরে কী রয়েছে, তা নিয়ে কৌতূহল থাকলেও সেগুলো খোলার কোনো নিশ্চিত পরিকল্পনা বা অনুমোদনের তথ্য এখানে পাওয়া যায়নি। সিন্দুকগুলো এখন ঐতিহাসিক নিদর্শন। ফলে সেগুলো খোলার ক্ষেত্রে শুধু তালা ভাঙার প্রশ্ন নয়, সংরক্ষণ, নিরাপত্তা ও ঐতিহাসিক অখণ্ডতার বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হবে।
১৯৮৭ সালে বড় সিন্দুকটি খোলার সময় দেখা গিয়েছিল, প্রচলিত পদ্ধতিতে লকার খুলতে গেলে সিন্দুকের কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শেষ পর্যন্ত পেছনের অংশ খুলে পরীক্ষা করতে হয়েছিল। এ অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, পুরোনো সিন্দুক খোলা মানেই কেবল ভেতরের জিনিস বের করা নয়; একই সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক বস্তু অক্ষত রাখার চ্যালেঞ্জও রয়েছে।
জাদুঘরের উপকিপার দিবাকর সিকদার জানিয়েছেন, তালাবদ্ধ সিন্দুকগুলো দর্শনার্থীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করে। তাঁর নিজেরও সেগুলোর ভেতরে কী আছে, তা জানার আগ্রহ রয়েছে। কিন্তু সেগুলো কখনো খোলা হয়নি।
এই বক্তব্য রহস্যটির সবচেয়ে বাস্তব দিক তুলে ধরে: কৌতূহল আছে, কিন্তু অনুমানকে সত্য বলে প্রতিষ্ঠা করার মতো তথ্য নেই।
আরেক রহস্য: সোনালী ব্যাংকের ভল্টে দরিয়া-ই-নূর
আহসান মঞ্জিলের তিন সিন্দুকের গল্পের সঙ্গে প্রায়ই আলোচনায় আসে ঢাকার নবাব পরিবারের আরেক সম্পদ—দরিয়া-ই-নূর হীরা। তবে এটি আহসান মঞ্জিলের সিন্দুকগুলোর সঙ্গে এক নয়; এর ইতিহাস আলাদা এবং সরকারি নথির সঙ্গে সম্পর্কিত।
ভূমি সংস্কার বোর্ডের নথি অনুযায়ী, ১৯০৮ সালে আর্থিক সংকটে পড়ে নবাব সলিমুল্লাহ পূর্ববঙ্গ ও আসাম সরকারের কাছ থেকে ১৪ লাখ রুপি ঋণ নেন। ঋণের বিপরীতে দরিয়া-ই-নূর হীরাসহ নবাব পরিবারের ১০৯ ধরনের রত্ন ও মূল্যবান সামগ্রী বন্ধক রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে এসব সম্পদ ব্যাংকের ভল্টে সংরক্ষিত হয়। স্বাধীনতার পর সেগুলো সোনালী ব্যাংকের ভল্টে থাকার কথা সরকারি নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
এখানেও রয়েছে ঐতিহাসিক কৌতূহল—নথিতে সম্পদের বিবরণ থাকলেও সেগুলোর বর্তমান অবস্থা ও পরিচয় যাচাইয়ের জন্য যথাযথ প্রক্রিয়া প্রয়োজন। তাই সোনালী ব্যাংকের ভল্টে দরিয়া-ই-নূর থাকার বিষয়টি নথিভিত্তিক ঐতিহাসিক দাবি হিসেবে উল্লেখ করা যায়; কিন্তু আহসান মঞ্জিলের তিন সিন্দুকে সেই হীরা বা অন্য কোনো রত্ন রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ভিত্তি নেই।
রহস্যের চেয়ে বড় ইতিহাস
আহসান মঞ্জিলের পাঁচটি সিন্দুককে ঘিরে কৌতূহল সহজেই গুপ্তধনের গল্পে রূপ নিতে পারে। কিন্তু ইতিহাসের মূল্য শুধু অজানা সম্পদের সম্ভাবনায় নয়। এই সিন্দুকগুলো নবাব পরিবারের সম্পদ সংরক্ষণের ব্যবস্থা, ঔপনিবেশিক আমলের নিরাপত্তা প্রযুক্তি, জমিদারি ব্যবস্থার উত্থান-পতন এবং স্বাধীন বাংলাদেশের ঐতিহ্য সংরক্ষণের ইতিহাসেরও অংশ।
দুটি সিন্দুক খোলার পর মূল্যবান কিছু না পাওয়ার তথ্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বাকি তিনটি না খোলার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইতিহাসে প্রমাণ ও অনুমানের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখাই সবচেয়ে জরুরি।
তিনটি সিন্দুকের ভেতরে হয়তো পুরোনো কাগজপত্র, ব্যক্তিগত সামগ্রী, মূল্যবান বস্তু কিংবা কিছুই নেই। এগুলোর কোনোটিই এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। সিন্দুকগুলোর রহস্যের উত্তর পেতে হলে প্রয়োজন হবে জাদুঘর কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত অনুসন্ধান, সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞের সহায়তা এবং নথিভিত্তিক যাচাই।
তত দিন আহসান মঞ্জিলের ৯ নম্বর গ্যালারিতে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা পাঁচটি লোহার সিন্দুক দর্শনার্থীদের মনে একই প্রশ্ন জাগিয়ে যাবে—দুটি খোলার পর রহস্যের কিছুটা অবসান হয়েছে, কিন্তু বাকি তিনটির দরজার ওপারে কী আছে?