প্রোটিনের সহজলভ্য ও জনপ্রিয় উৎস হিসেবে মুরগির মাংসের চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। মাংসের পাশাপাশি মুরগির বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও অনেকের খাবারের তালিকায় থাকে। তবে সব অংশ সমানভাবে খাওয়ার উপযোগী নয়। বিশেষ করে যেসব অংশ পরিষ্কার করা কঠিন বা জীবাণু থাকার ঝুঁকি বেশি, সেগুলো খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে মুরগির কিছু অংশ বাদ দেওয়া কিংবা ভালোভাবে পরিষ্কার ও রান্না করে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে—
মুরগির চামড়া: চামড়ায় তুলনামূলক বেশি চর্বি থাকে। অতিরিক্ত খেলে খাদ্যতালিকায় চর্বির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। এ ছাড়া অপর্যাপ্ত রান্নায় জীবাণু থেকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
ফুসফুস: মুরগির ফুসফুসে জীবাণু থাকার আশঙ্কা থাকায় এটি ভালোভাবে পরিষ্কার ও রান্না করা জরুরি।
মাথা: মুরগির মাথা অনেকেই ঝোল বা অন্যান্য রান্নায় ব্যবহার করেন। তবে এটি খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।
অন্ত্র: অন্ত্রে জীবাণু থাকার ঝুঁকি বেশি। সালমোনেলা ও ক্যাম্পিলোব্যাক্টারের মতো ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের আশঙ্কা থাকায় এটি ভালোভাবে পরিষ্কার ও পর্যাপ্ত তাপে রান্না করা জরুরি।
পা: মুরগির পা খাবার হিসেবে জনপ্রিয় হলেও এতে ময়লা ও জীবাণু লেগে থাকতে পারে। রান্নার আগে ভালোভাবে পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
হৃদপিণ্ড: এতে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান থাকলেও পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখা উচিত। নিয়মিত ও অতিরিক্ত খাওয়ার পরিবর্তে পরিমিত গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়।
গিলা: মুরগির গিলায় খাদ্যকণা বা ময়লা থাকতে পারে। তাই ভালোভাবে ধুয়ে পর্যাপ্ত সময় রান্না করেই খাওয়া উচিত।
গলা: মুরগির গলা রান্নায় ব্যবহৃত হলেও এটি ভালোভাবে পরিষ্কার ও সিদ্ধ করা প্রয়োজন। অপর্যাপ্ত রান্নায় জীবাণু থেকে যেতে পারে।
ডানা: ডানায় চামড়া ও চর্বির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হতে পারে। একই সঙ্গে অপর্যাপ্ত রান্নায় জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।
অস্থিমজ্জা: হাড় ও অস্থিমজ্জা ব্যবহার করে বিভিন্ন পদ তৈরি করা হয়। তবে কাঁচা বা অপর্যাপ্ত রান্না করা মাংসে জীবাণু থাকার ঝুঁকি থাকায় পর্যাপ্ত তাপে রান্না করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মুরগির মাংস নিরাপদে খাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সঠিকভাবে রান্না করা। কাঁচা মাংসের জীবাণু যেন অন্য খাবারে ছড়িয়ে না পড়ে, সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে।
মুরগি কাটার পর হাত, ছুরি ও কাটিং বোর্ড ভালোভাবে পরিষ্কার করা এবং মাংস পর্যাপ্ত তাপে রান্না করা জরুরি। একই সঙ্গে অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত অংশ পরিমিত খেলে খাদ্যাভ্যাস আরও ভারসাম্যপূর্ণ রাখা সম্ভব।