তিন মাস বন্ধ থাকার পর আজ ১ সেপ্টেম্বর থেকে আবারও পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। দীর্ঘ বিরতির পর পর্যটকদের প্রবেশের সুযোগ চালু হওয়ায় এরই মধ্যে ভ্রমণপ্রেমীদের মধ্যে আগ্রহ বেড়েছে।
তবে সুন্দরবনে যাওয়ার আগে বন বিভাগের অনুমতি, যাতায়াত ব্যবস্থা, নৌযান, খরচ ও বিভিন্ন বিধিনিষেধ সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি। ভ্রমণকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ ১২টি বিষয়।
✅ যাতায়াতের পথ: খুলনা, মোংলা ও সাতক্ষীরার শ্যামনগর হয়ে সুন্দরবনে যাওয়া যায়। লঞ্চ বা জাহাজে ভ্রমণের জন্য খুলনা ও মোংলা থেকে যাত্রা করা যায়।
✅অনুমতি ছাড়া প্রবেশ নয়: বন বিভাগের অনুমতি বা বৈধ পাস ছাড়া সুন্দরবনের নির্ধারিত এলাকায় প্রবেশ করা যাবে না। কিছু স্থানে বিশেষ অনুমতিরও প্রয়োজন হতে পারে।
✅ঢাকা থেকে যাতায়াত: বাসে সরাসরি খুলনা ও মোংলায় যাওয়া যায়। খুলনায় ট্রেনেও যাতায়াতের সুযোগ রয়েছে।
✅নৌযান কোথায় পাবেন: মোংলা, খুলনার চালনা ও সাতক্ষীরার মুন্সিগঞ্জ এলাকায় সুন্দরবন ভ্রমণের জন্য বিভিন্ন নৌযান পাওয়া যায়।
✅প্যাকেজের সুবিধা: ট্রাভেল এজেন্সির প্যাকেজে সাধারণত বন বিভাগের ফি, থাকা, খাবার, গাইডসহ বিভিন্ন খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকে। নিজ উদ্যোগে গেলে আলাদা ফি দিতে হতে পারে।
✅এক দিনেই করমজল-হাড়বাড়িয়া: সকালে মোংলা থেকে রওনা হলে এক দিনেই করমজল ও হাড়বাড়িয়া ঘুরে দেখা সম্ভব। দিনের খাবার সঙ্গে নিয়ে যাওয়া ভালো।
✅ইকোকটেজে থাকার সুযোগ: সুন্দরবনসংলগ্ন খুলনার দাকোপ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ইকোকটেজে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।
✅নৌযানের সংখ্যা: খুলনা থেকে সুন্দরবন ভ্রমণের জন্য প্রায় ৬৫টি জলযান রয়েছে। এসব নৌযানে ৬ থেকে সর্বোচ্চ ৭৫ জন পর্যন্ত যাত্রী যেতে পারেন।
✅তিন দিন দুই রাতের ট্যুর: সুন্দরবনে সাধারণত তিন দিন দুই রাতের ট্যুর জনপ্রিয়। ট্যুর কোম্পানির ক্ষেত্রে মোট খরচের ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত অগ্রিম দিতে হতে পারে।
✅জনপ্রতি খরচ: নন-এসি জলযানে প্রায় ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা এবং এসি জলযানে প্রায় ১৪ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হতে পারে।
✅প্যাকেজে কী থাকে: সাধারণত বন বিভাগের অনুমতি ফি, থাকা, গাইড, তিন বেলার খাবার ও দুটি স্ন্যাকস প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত থাকে।
✅বন বিভাগের নিয়ম মানুন: সুন্দরবনে ড্রোন ওড়ানো ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ। ওয়ানটাইম প্লাস্টিকসহ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর সামগ্রী ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। বন্যপ্রাণী ও পাখিদেরও বিরক্ত করা যাবে না।