জামাই আদরে আস্ত খাসি, এই রীতির পেছনে কী আছে?

লাইফস্টাইল ডেস্ক

জীবনযাপন

বিয়ে মানেই শুধু দুই মানুষের নতুন জীবনের শুরু নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দুই পরিবারের আনন্দ, আতিথেয়তা ও নানা সামাজিক

2026-08-21T19:45:46+00:00
2026-08-21T19:45:46+00:00
  শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬,
৬ ভাদ্র ১৪৩৩
 
শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
জীবনযাপন
জামাই আদরে আস্ত খাসি, এই রীতির পেছনে কী আছে?
লাইফস্টাইল ডেস্ক
শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪৫ পিএম 
জামাই আদরে আস্ত খাসি, এই রীতির পেছনে কী আছে?
বিয়ে মানেই শুধু দুই মানুষের নতুন জীবনের শুরু নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দুই পরিবারের আনন্দ, আতিথেয়তা ও নানা সামাজিক রীতি। বাঙালি সংস্কৃতিতে বর ও বরপক্ষকে বিশেষভাবে আপ্যায়নের চলও বহুদিনের। আর সেই আপ্যায়নের অন্যতম আকর্ষণ অনেক অঞ্চলে বড় ডালা বা থালায় সাজানো নানা ধরনের খাবার।

পোলাও, বিরিয়ানি, রোস্ট, কাবাব, মাছ, মাংস, মিষ্টি ও ফলের পাশাপাশি কোনো কোনো এলাকায় বরের জন্য দেওয়া হয় খাসির মাংস, খাসির মাথা কিংবা এমনকি আস্ত খাসিও। কিন্তু প্রশ্ন হলো, নতুন জামাইকে আস্ত খাসি দেওয়ার এই রীতি এল কোথা থেকে?

সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় একটি বিয়েকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হলে পুরোনো এই ‘জামাই ভোজ ডালা’ রীতিটি আবার সামনে আসে। বরের জন্য আস্ত খাসির মাংসের আয়োজন না থাকায় অসন্তোষের একটি ঘটনা ঘিরে নানা আলোচনা হয়।

‘জামাই আদর’ থেকেই রীতির বিস্তার
বাংলার সামাজিক সংস্কৃতিতে জামাইকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার রীতি বেশ পুরোনো। বিয়ের পর কনের পরিবার জামাইকে পান-সুপারি, মিষ্টি, শরবত ও নানা উপহার দিয়ে আপ্যায়ন করত। সময়ের সঙ্গে সেই আয়োজন আরও জমকালো হয়েছে। উপহারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন ধরনের খাবার।

বিয়ের মতো বড় অনুষ্ঠানে বর ও বরযাত্রীদের জন্য বিশেষ খাবারের আয়োজনকে পরিবারের আতিথেয়তা ও সামর্থ্য প্রদর্শনের একটি মাধ্যম হিসেবেও দেখা হয়। অনেক পরিবারে বড় ডালা বা বিশেষ থালায় একসঙ্গে নানা পদ সাজিয়ে বরের সামনে পরিবেশন করা হয়।

আস্ত খাসির এত কদর কেন?

বাঙালির সামাজিক ও পারিবারিক আয়োজনে খাসির মাংস দীর্ঘদিন ধরেই মর্যাদাপূর্ণ খাবার হিসেবে বিবেচিত। বিশেষ করে গ্রাম ও মফস্বল অঞ্চলে বিয়ে, মেজবানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিথি আপ্যায়নে খাসির মাংসের গুরুত্ব রয়েছে।

বর ও বরযাত্রীদের আলাদা সম্মান দেখাতে অনেক এলাকায় পোলাওয়ের সঙ্গে খাসির মাংস পরিবেশন করা হয়। কোথাও বড় ডালায় মাংস সাজিয়ে দেওয়া হয়, আবার কোথাও খাসির মাথা বা বড় মাংসের টুকরো দেওয়া হয়।

এ কারণে অনেক পরিবারের কাছে আস্ত খাসি নিছক খাবার নয়; এটি হয়ে উঠেছে বিশেষ সম্মান, আতিথেয়তা ও পারিবারিক সামর্থ্যের প্রতীক।

তবে এই রীতির পেছনে নির্দিষ্ট কোনো ঐতিহাসিক সাল বা একক উৎসের কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। দীর্ঘদিনের সামাজিক প্রথা, আঞ্চলিক সংস্কৃতি ও পারিবারিক ঐতিহ্যের মধ্য দিয়েই এটি গড়ে উঠেছে বলে মনে করা হয়।

সব অঞ্চলে কি আস্ত খাসি দেওয়া হয়?
একেবারেই নয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিয়ের রীতিতে রয়েছে ব্যাপক বৈচিত্র্য। কোথাও খাসির মাংসকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, আবার কোথাও মাছ, মিষ্টি বা অন্য কোনো খাবারকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়।

কোনো কোনো এলাকায় বরের জন্য বড় থালা বা ডালায় খাবার পাঠানোর রীতিকে ‘সাগরানা থালা’, ‘সাগরানা’ কিংবা ‘ছদরি খানা’সহ বিভিন্ন নামে ডাকা হয়। নাম আলাদা হলেও মূল উদ্দেশ্য একই—বরকে বিশেষভাবে আপ্যায়ন করা।

বর্তমানে ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে খাবার পরিবেশনের নান্দনিকতাও। বড় ডালায় পোলাও, বিরিয়ানি, রোস্ট, কাবাব, মাছ-মাংস, মিষ্টি ও ফল সাজিয়ে দেওয়ার রীতি অনেক বিয়ের অনুষ্ঠানের আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

কখনো রীতিই হয়ে ওঠে চাপ
জামাই আদরের এই ঐতিহ্য আনন্দের হলেও কিছু ক্ষেত্রে তা পরিবারের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে। ‘খাসি না দিলে সম্মান থাকবে না’ কিংবা অন্য পরিবারের চেয়ে বড় আয়োজন করতেই হবে—এমন ধারণা অনেক পরিবারকে সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে খরচ করতে বাধ্য করে।

কত বড় ডালা, কত ধরনের খাবার কিংবা কত দামি মাংস দেওয়া হলো—এসব দিয়ে পারিবারিক মর্যাদা বিচার করা হলে সম্পর্কের জায়গায় হিসাব-নিকাশ ঢুকে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

অথচ বিয়ের মূল সৌন্দর্য পারস্পরিক সম্মান, বোঝাপড়া ও আনন্দ ভাগাভাগির মধ্যেই।

খাবারের চেয়ে বড় সম্পর্ক
নতুন জামাইকে আস্ত খাসি দেওয়ার রীতির পেছনে মূলত রয়েছে আতিথেয়তা, সামাজিক মর্যাদা ও ভালোবাসা প্রকাশের দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি। তবে অঞ্চল ও পরিবারভেদে এই রীতির ধরন ভিন্ন হতে পারে।

শেষ পর্যন্ত খাবারের পরিমাণ বা দাম দিয়ে সম্মানের মূল্য নির্ধারণ করা যায় না। ঐতিহ্য তখনই সুন্দর, যখন তা দুই পরিবারের আনন্দ ও বন্ধনের অংশ হয়, দাবি, চাপ কিংবা সম্পর্কের শর্ত হয়ে ওঠে না।


Loading...
Loading...

জীবনযাপন- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: