মাটিতেই লুকিয়ে শিশুর সুস্থতার রহস্য!

লাইফস্টাইল ডেস্ক

জীবনযাপন

শহুরে জীবনে প্রকৃতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে শিশুরা। কংক্রিটের ভবন, পাকা রাস্তা আর ঘরের চার দেয়ালের মধ্যে বেড়ে ওঠায় মাটি,

2026-09-15T18:01:13+00:00
2026-09-15T18:01:13+00:00
  বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২ আশ্বিন ১৪৩৩
 
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জীবনযাপন
মাটিতেই লুকিয়ে শিশুর সুস্থতার রহস্য!
লাইফস্টাইল ডেস্ক
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০১ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
শহুরে জীবনে প্রকৃতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে শিশুরা। কংক্রিটের ভবন, পাকা রাস্তা আর ঘরের চার দেয়ালের মধ্যে বেড়ে ওঠায় মাটি, ঘাস, গাছপালা কিংবা বনভূমির সঙ্গে তাদের স্বাভাবিক যোগাযোগ ক্রমেই কমছে। তবে গবেষণা বলছে, প্রকৃতির সঙ্গে নিয়মিত সংস্পর্শ শুধু শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশেই ভূমিকা রাখতে পারে না, ত্বকের অণুজীবের বৈচিত্র্যেও প্রভাব ফেলতে পারে।

বাগানে খেলাধুলা, মাটি নিয়ে কাজ করা কিংবা ঘাসের ওপর দৌড়ঝাঁপ—এসবের মাধ্যমে শিশুরা নানা ধরনের প্রাকৃতিক অণুজীবের সংস্পর্শে আসে। আর ত্বকে থাকা এসব অণুজীবের বৈচিত্র্যের সঙ্গে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা।

মাত্র ২০ সেকেন্ডের মাটির সংস্পর্শে কী ঘটে?

ফিনল্যান্ডের এক গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের হাতে মাত্র ২০ সেকেন্ড ধরে মাটি, পিট ও শ্যাওলা ঘষতে দেওয়া হয়। পরে তাদের ত্বক পরীক্ষা করে অণুজীবের সংখ্যা ও বৈচিত্র্যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পান গবেষকরা। এমনকি কলের পানি দিয়ে হাত ধোয়ার পরও পরিবর্তনের কিছুটা প্রভাব দেখা যায়।

তবে এই পরিবর্তন স্থায়ী ছিল না। গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অল্প সময়ের প্রকৃতির সংস্পর্শে ত্বকের অণুজীবে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন তৈরি হয় না। এ কারণে তাদের ধারণা, একবার অল্প সময় মাটিতে হাত দেওয়ার চেয়ে নিয়মিত ও দীর্ঘ সময় প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

ত্বকের সব জীবাণু কি ক্ষতিকর?

ত্বকে ব্যাকটেরিয়া বা অন্যান্য অণুজীব থাকলেই তা ক্ষতিকর—এমন ধারণা ঠিক নয়। মানুষের ত্বকে স্বাভাবিকভাবেই নানা ধরনের অণুজীব বসবাস করে। এসব অণুজীবের বৈচিত্র্য একটি ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।

গবেষকদের ধারণা, ত্বকে অণুজীবের বৈচিত্র্য বেশি থাকলে সম্ভাব্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ কিছুটা কমতে পারে।

শিশুদের জন্য তৈরি করা হয়েছিল ‘বনভূমি’

শিশুদের ওপর প্রকৃতির প্রভাব আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য ফিনল্যান্ডে একটি ডে-কেয়ার সেন্টারে বনভূমির আদলে খেলার পরিবেশ তৈরি করা হয়। সেখানে শিশুদের গাছে চড়া, মাটি ও কাঠ নিয়ে খেলা, বালির দুর্গ তৈরি এবং বিভিন্ন ধরনের গাছপালার সংস্পর্শে আসার সুযোগ দেওয়া হয়।

গবেষকরা শিশুদের ত্বক, লালা ও মলের পাশাপাশি রক্ত ও চুলের নমুনাও সংগ্রহ করেন। দীর্ঘ সময় প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকার ফলে শিশুদের শরীরের অণুজীব সমষ্টি বা মাইক্রোবায়োম এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তন ঘটে কি না, সেটিই ছিল গবেষণার মূল বিষয়।

২৮ দিন প্রকৃতির মধ্যে খেলায় কী পরিবর্তন?

২০১৬ ও ২০১৭ সালের একটি গবেষণায় ডে-কেয়ারের খেলার মাঠে পিট, গাছপালা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদান যুক্ত করা হয়েছিল। শিশুরা সেখানে ২৮ দিন নিয়মিত খেলাধুলা করার পর দেখা যায়, তাদের ত্বক, লালা ও অন্ত্রে অণুজীবের বৈচিত্র্য তুলনামূলকভাবে বেড়েছে।

পাকা বা নুড়িপাথর বিছানো খেলার মাঠে খেলা শিশুদের সঙ্গে তুলনা করে এই পার্থক্য পাওয়া যায়। আরও চমকপ্রদ বিষয় হলো, এক বছর পর পুনরায় পরীক্ষা করেও ত্বকের অণুজীবের বৈচিত্র্যে কিছু পার্থক্য দেখা যায়।

এ ছাড়া প্রকৃতির পরিবেশে খেলা শিশুদের ত্বকে সম্ভাব্য রোগ সৃষ্টিকারী কিছু অণুজীবের উপস্থিতিও তুলনামূলকভাবে কম পাওয়া যায়।

তাহলে কি মাটিতে খেললেই বাড়বে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা?

গবেষণার ফল আশাব্যঞ্জক হলেও বিষয়টি নিয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকার সঙ্গে অণুজীবের বৈচিত্র্য এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কিছু পরিবর্তনের সম্পর্ক পাওয়া গেলেও, শুধু মাটিতে খেললেই শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিশ্চিতভাবে বেড়ে যায়—এমন প্রমাণ এখনো নেই।

তবে গবেষণাগুলো থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—শিশুদের সম্পূর্ণভাবে প্রকৃতি থেকে দূরে না রেখে নিরাপদ পরিবেশে মাটি, ঘাস, গাছপালা ও প্রাকৃতিক উপাদানের সঙ্গে নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ দেওয়া তাদের সামগ্রিক সুস্থতার জন্য উপকারী হতে পারে।

সূত্র: জিও নিউজ, বিবিসি


Loading...
Loading...

জীবনযাপন- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: