মলত্যাগ শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে শৌচাগারে প্রতিদিনের কিছু অসচেতন অভ্যাস এই প্রক্রিয়াকে কঠিন করে তুলতে পারে। দীর্ঘদিন এসব অভ্যাস চলতে থাকলে কোষ্ঠকাঠিন্য ও অর্শের মতো সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই শৌচাগার ব্যবহারের সময় কয়েকটি বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।
১. মলত্যাগের বেগ চেপে রাখা
কাজের ব্যস্ততা কিংবা অপরিচ্ছন্ন শৌচাগার ব্যবহারে অনীহার কারণে অনেকেই মলত্যাগের বেগ আটকে রাখেন। মাঝেমধ্যে এমনটা হলে সাধারণত বড় সমস্যা না হলেও নিয়মিত এই অভ্যাস ক্ষতিকর হতে পারে। দীর্ঘ সময় মল বৃহদান্ত্রে আটকে থাকলে সেখান থেকে অতিরিক্ত পানি শোষিত হয়। ফলে মল শক্ত হয়ে যায় এবং পরে মলত্যাগে কষ্ট হতে পারে। দীর্ঘদিন বেগ চেপে রাখলে মলত্যাগের স্বাভাবিক অভ্যাসও ব্যাহত হতে পারে।
২. শৌচাগারে বসে দীর্ঘক্ষণ ফোন দেখা
অনেকেই শৌচাগারে গিয়ে মোবাইল ফোনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও কিংবা খবর দেখতে শুরু করেন। এতে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় কমোডে বসে থাকা হয়। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে মলদ্বারের আশপাশের শিরায় চাপ বাড়তে পারে, যা অর্শের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই মলত্যাগ শেষ হলে অযথা শৌচাগারে বসে না থাকাই ভালো।
৩. মলত্যাগে অতিরিক্ত চাপ দেওয়া
কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে মল বের করতে অতিরিক্ত জোর প্রয়োগ করেন অনেকে। বারবার এমন চাপ দিলে মলদ্বারের আশপাশে চাপ বাড়ে। এতে অর্শের সমস্যা দেখা দিতে পারে কিংবা আগে থেকে থাকা সমস্যা আরও বাড়তে পারে। তাই অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ না করে খাবারে পর্যাপ্ত আঁশ ও পানি আছে কি না, সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। কোষ্ঠকাঠিন্য দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৪. ভুল ভঙ্গিতে বসা
মলত্যাগের সময় শরীরের ভঙ্গিও গুরুত্বপূর্ণ। কমোডে বসার সময় পায়ের নিচে ছোট পিঁড়ি বা উঁচু টুল রাখলে হাঁটু নিতম্বের চেয়ে কিছুটা ওপরে থাকে। এতে মলত্যাগের ভঙ্গি আরও স্বাভাবিক হতে পারে এবং মলত্যাগ সহজ হতে পারে।
সুস্থ মলত্যাগে যা জরুরি
মলত্যাগ স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত বেগ পেলে শৌচাগারে যাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান, আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া এবং শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি শৌচাগারে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা ও অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগের অভ্যাস পরিহার করা উচিত।
কোষ্ঠকাঠিন্য দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে, মলত্যাগের সময় রক্তপাত হলে বা তীব্র ব্যথা দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।