বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় হরমোনের ওষুধ, ভবিষ্যতে ক্যানসারের ভয় কতটা?

লাইফস্টাইল ডেস্ক

জীবনযাপন

সন্তান ধারণে জটিলতা দেখা দিলে অনেক দম্পতিই বন্ধ্যত্বের চিকিৎসার আশ্রয় নেন। বর্তমানে আইভিএফসহ (ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন) বিভিন্ন সহায়ক প্রজনন পদ্ধতি

2026-10-03T18:37:21+00:00
2026-10-03T18:37:21+00:00
  রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬,
১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
 
রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
জীবনযাপন
বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় হরমোনের ওষুধ, ভবিষ্যতে ক্যানসারের ভয় কতটা?
লাইফস্টাইল ডেস্ক
শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৭ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
সন্তান ধারণে জটিলতা দেখা দিলে অনেক দম্পতিই বন্ধ্যত্বের চিকিৎসার আশ্রয় নেন। বর্তমানে আইভিএফসহ (ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন) বিভিন্ন সহায়ক প্রজনন পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়েছে। এসব চিকিৎসায় হরমোনের ওষুধ ব্যবহারের কারণে ভবিষ্যতে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে কি না—এ নিয়ে অনেকের মধ্যেই উদ্বেগ রয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, বিষয়টি নিয়ে আশঙ্কা থাকলেও বর্তমান গবেষণায় অধিকাংশ নারীর ক্ষেত্রে বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা ও স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধির মধ্যে সরাসরি ও ধারাবাহিক সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ভারতের ক্যানসার চিকিৎসক ও ব্রেস্ট অনকোপ্লাস্টি বিশেষজ্ঞ ডা. প্রগতি সিংহলের মতে, বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হরমোন নিয়ে উদ্বেগ থাকা স্বাভাবিক হলেও বর্তমান চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অধিকাংশ নারীর জন্য আশ্বস্ত হওয়ার মতো।

হরমোনের ওষুধ নিয়ে কেন উদ্বেগ?

বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় ডিম্বাণু তৈরিতে সহায়তা করতে ক্লোমিফিন সাইট্রেট ও গোনাডোট্রপিনের মতো ওষুধ ব্যবহার করা হয়। এসব ওষুধ সাময়িকভাবে শরীরে ইস্ট্রোজেনসহ বিভিন্ন হরমোনের মাত্রা বাড়াতে পারে।

আবার স্তন ক্যানসারের কিছু ধরন হরমোনের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় ব্যবহৃত এসব ওষুধ দীর্ঘমেয়াদে কোনো প্রভাব ফেলে কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চলছে।

গবেষণায় কী পাওয়া গেছে?

গত দুই দশকে পরিচালিত বড় পরিসরের বিভিন্ন গবেষণায় আইভিএফ বা অন্যান্য সহায়ক প্রজনন চিকিৎসার সঙ্গে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধির কোনো ধারাবাহিক ও সুস্পষ্ট সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।

তবে গবেষকরা বন্ধ্যত্বের পেছনের কারণগুলোকেও গুরুত্ব দিতে বলেন। যেমন—দেরিতে সন্তান নেওয়া কিংবা সন্তান না হওয়ার মতো কিছু বিষয় নিজেরাই স্তন ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। ফলে চিকিৎসা নেওয়ার পর ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে মনে হলেও এর পেছনে অন্য কারণও থাকতে পারে।

কারা বেশি সতর্ক থাকবেন?

যেসব নারীর পরিবারে স্তন ক্যানসারের ইতিহাস রয়েছে অথবা BRCA1 ও BRCA2 জিনে পরিবর্তন রয়েছে, তাদের বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা শুরুর আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা জরুরি।

কারণ, এসব ক্ষেত্রে বন্ধ্যত্বের চিকিৎসার বাইরেও স্বাভাবিকভাবে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে।

এ ছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে কিংবা একাধিক চক্রে হরমোনের ওষুধ ব্যবহারের প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

চিকিৎসকের পরামর্শই গুরুত্বপূর্ণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্ধ্যত্বের চিকিৎসার সম্ভাব্য উপকারিতা ও ঝুঁকি সবার ক্ষেত্রে এক নয়। রোগীর বয়স, শারীরিক অবস্থা, পারিবারিক চিকিৎসা ইতিহাস এবং বন্ধ্যত্বের কারণ বিবেচনা করেই চিকিৎসাপদ্ধতি নির্ধারণ করা উচিত।

তাই আইভিএফ বা অন্য কোনো বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা শুরুর আগে নিজের পারিবারিক চিকিৎসা ইতিহাসসহ প্রয়োজনীয় তথ্য চিকিৎসককে জানানো গুরুত্বপূর্ণ। এতে চিকিৎসক ব্যক্তির ঝুঁকি ও প্রয়োজন বিবেচনা করে উপযুক্ত চিকিৎসাপদ্ধতি নির্ধারণ করতে পারবেন।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস


Loading...
Loading...

জীবনযাপন- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: