প্রশিক্ষণ পাচ্ছে সাড়ে ৩ লাখের বেশি শিক্ষক

সোহাগ রাসিফ

শিক্ষা

মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও শিখন—ঘাটতি কমাতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৯০ জন শিক্ষককে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের

2026-10-12T13:55:29+00:00
2026-10-12T13:55:29+00:00
  মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬,
২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
 
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
শিক্ষা
দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশ্বব্যংকের সহায়তা
প্রশিক্ষণ পাচ্ছে সাড়ে ৩ লাখের বেশি শিক্ষক
সোহাগ রাসিফ
সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৫ পিএম 
প্রতীকী ছবি
মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও শিখন—ঘাটতি কমাতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৯০ জন শিক্ষককে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ‘মাধ্যমিক শিক্ষায় শিখন ত্বরান্বিতকরণ’ (লেইস) প্রকল্পের আওতায় ২০২৩-২০২৮ মেয়াদে এই কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই প্রকল্পে শিক্ষকদের মৌলিক ও বিষয়ভিত্তিক শিক্ষাদান, নেতৃত্ব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নিবিড় প্রশিক্ষণ দিয়ে ২০২৮ সালের মধ্যে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের দক্ষতা অন্তত ১৫ শতাংশ বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১০ হাজারের বেশি শিক্ষক এই প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে এবং ২ হাজার ২৬০ জন বর্তমানে সশরীরে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে।

শিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করতে শিক্ষক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে ১০,৩৪০টি প্রতিষ্ঠানে স্মার্ট ও গবেষণাধর্মী ক্লাসরুম স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ ছাড়া এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সহায়তায় অপেক্ষমান ‘নেক্সটজেন প্রকল্প’, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রসারে মেগা প্রকল্প, ৩২টি জেলায় ‘হায়ার সেকন্ডারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট’ স্থাপন এবং প্রাথমিকে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচির মতো নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এসব কর্মসূচী বর্তমানে প্রস্তাবনার মধ্যে থাকলেও দ্রতই বাস্তবায়নের পথে হাটবে বলেছে সরকার।

এদিকে লেইস প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, মাধ্যমিক স্তরের ২৬ হাজার ৮৮০ জন নবীন শিক্ষককে দেশের ১৪টি সরকারি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজে ৫৬ দিনব্যাপী আবাসিক মৌলিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৫ হাজার ১৬০ জন শিক্ষক এই প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন এবং চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আরও ১০ হাজার শিক্ষককে এই আওতায় আনা হবে। অন্যদিকে বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ে ৫৩ হাজার ৭৬০ জন শিক্ষকের জন্য ৪২ দিনব্যাপী নিবিড় পেশাগত উন্নয়ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৬০ জন শিক্ষকের প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে এবং চলতি অর্থবছরে আরও ২০ হাজার শিক্ষককে এই বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

শুধুমাত্র শ্রেণিকক্ষের শিক্ষকই নন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়াতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং মাদ্রাসার সুপার ও সহকারী সুপারসহ ২৮ হাজার ৮০০ জন প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে ২১ দিনের নেতৃত্ব বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ১১ হাজার শিক্ষককে ১০ দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যার মধ্যে ২ হাজার ২৮০ জন ইতোমধ্যে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, কাউন্সিলিং, সাইবার বুলিং ও হয়রানি প্রতিরোধে ১ লাখ ১৮ হাজার ৩৪০ জন শিক্ষককে বিশেষ প্রশিক্ষণ মডিউলের আওতায় আনার বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আধুনিক যুগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ের ২৯ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষককে ৩০ দিনব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক আধুনিক প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২৯ হাজার ৬২১ জন গ্রন্থাগারিককে গ্রন্থাগার পরিচালনা ও শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের মূলধারার শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করতে ৫৯ হাজার ১৭০ জন শিক্ষককে সমন্বিত শিক্ষা পদ্ধতিতে এবং সাধারণ স্কুলের কারিগরি কোর্সের ২ হাজার শিক্ষককে ১০ দিনের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।

লেইস প্রকল্পের অধীনে শুধু শিক্ষক প্রশিক্ষণই নয়, দেশের ১০ হাজার ৩৪০টি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২০ হাজার ৬৮০টি স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (আইইআর)-এর নেতৃত্বে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি), নায়েম ও বিষয় বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল তৈরি করা হয়েছে। প্রশিক্ষণের কার্যকারিতা যাচাইয়ে আইইআর-এর মাধ্যমে একটি গবেষণাধর্মী ‘আর্লি ইমপ্যাক্ট স্টাডি’ও পরিচালনা করা হচ্ছে।

লেইস প্রকল্পের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসম্মত ও আধুনিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকের বিকল্প নেই। লেইস প্রকল্পের মাধ্যমে মাধ্যমিকের শিক্ষকদের ধাপে ধাপে দক্ষ করে তোলা হচ্ছে এবং তাঁদের শ্রেণিকক্ষের পারফরম্যান্সও নিয়মিত মনিটর করা হচ্ছে।

মাউশি মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে কতটা দক্ষতার সঙ্গে প্রয়োগ করছেন, তা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় পরিচালিত এই প্রকল্পের পাশাপাশি শিক্ষকতা পেশাকে নতুন রূপ দিতে মেগা পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বাজেটের জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষায় বরাদ্দের লক্ষ্য নিয়ে শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৬৪৩ জন শিক্ষকের জন্য ‘নেক্সটজেন মাধ্যমিক শিক্ষা প্রকল্প’ (২০২৭-২০৩১) চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, যা ২০২৭ সালের শুরু থেকেই মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রসারে ১৭ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে ৭ লাখেরও বেশি শিক্ষককে আধুনিক ট্যাবলেট কম্পিউটার প্রদান, প্রতি প্রতিষ্ঠানে অন্তত ১০টি স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন এবং একক ‘এডু আইডি’ চালু করা হবে। আঞ্চলিক পর্যায়ে প্রশিক্ষণের জন্য ৪ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩২টি জেলায় ‘হায়ার সেকন্ডারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট’ (এইচএসটিটিআই) স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রাথমিকে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি চালুর পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধে ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়ে দেশের শিক্ষা খাতে যুগান্তকারী ও টেকসই পরিবর্তন আসবে বলে প্রত্যাশা করেছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।



Loading...
Loading...

শিক্ষা- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: