পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) আবারও র্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। দুই দিনের ব্যবধানে এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে নবীনদের শ্রেণিকক্ষে ডেকে অপমানজনক আচরণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বিভাগের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তাসনিম।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, গত বুধবার (৭ অক্টোবর) বিভাগের একটি শ্রেণিকক্ষে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের ডেকে নিয়ে র্যাগিং করা হয়। এ সময় এক নারী শিক্ষার্থীর চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে ওই শিক্ষার্থী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। পরে বাড়ি ফিরে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে একই বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইতমিনান, আসফাকুল, অভি, লাবিব, সাইমা ও হিমুর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীরা নিয়মিত জ্যেষ্ঠদের অপমানজনক আচরণ ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁদের কটূক্তি করা, জোর করে বিভিন্ন ধরনের হাসি দিতে বলা, পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে পরিচয় দিতে বাধ্য করা এবং জ্যেষ্ঠদের সালাম না দিলে বকাঝকা করার অভিযোগও রয়েছে।
এ ছাড়া অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলা কিংবা তাঁদের আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিলেও নবীনদের বকাঝকা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো ও মেসেজ দেওয়ার জন্যও নবীনদের চাপ দেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গত বুধবার জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে ওই নারী শিক্ষার্থীকে অপমানজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। একপর্যায়ে তাঁর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরে বাড়ি ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁর অভিভাবকেরাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই, দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নবীন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং অভিযোগ জানানোর কারণে কোনো শিক্ষার্থী যাতে প্রতিশোধমূলক আচরণ বা পুনরায় হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। তাঁর কাছে কিছুটা সন্দেহজনক মনে হলেও অভিযোগটি সঠিক কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, বিষয়টি ভালোভাবে যাচাই করতে হবে। এ জন্য শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন গ্রুপের সঙ্গে আলোচনা করে প্রকৃত ঘটনা জানার চেষ্টা করছেন। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও জানান তিনি।
বিভাগীয় চেয়ারম্যান আরও বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার মতো। তবে যাচাই-বাছাই ছাড়া কাউকে অভিযুক্ত করা ঠিক হবে না।