
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের উদ্যোগে ঢাকা বিভাগের কেন্দ্র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন। ফাজিল পাস পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়।
উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীরা নকলের সুযোগ পেলে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত হওয়ার আগ্রহ হারাতে পারে। এতে মাদরাসায় শিক্ষার্থী বাড়ানোর প্রচেষ্টাও বাধাগ্রস্ত হবে। নকল প্রতিরোধে শুধু শিক্ষার্থীদের শাস্তির মধ্যে ব্যবস্থা সীমাবদ্ধ রাখা হবে না; প্রয়োজনে কেন্দ্র বাতিল ও কেন্দ্রসচিবকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে। এ বিষয়ে সরকারের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং সেগুলোর কার্যকর পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন উপাচার্য।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মো. ওয়ালিউর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াছ ছিদ্দিকী। এ ছাড়া কামিল (স্নাতকোত্তর) শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী, মাদরাসা পরিদর্শক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. হুসাইন আহমাদ, উপ-রেজিস্ট্রার ফাহাদ আহমদ মোমতাজী এবং উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. জিয়াউর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উপাচার্য বলেন, নতুন করে ফাজিল ও কামিল মাদরাসার সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে বেশি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
পরীক্ষার ফরম পূরণের ফি বৃদ্ধি নিয়ে অধ্যক্ষদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফাজিল পাস ও কামিল মাস্টার্স কোর্সের পাঠ্যক্রম সাজানো হয়েছে। এতে কোর্সের সংখ্যা বেড়েছে। আগে ফাজিল পাস ও কামিল—উভয় কোর্সে চারটি করে বিষয় ছিল; বর্তমানে তা বেড়ে সাতটি হয়েছে। কোর্সের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ফরম পূরণের ফিও বেড়েছে বলে জানান তিনি।
সভায় উপস্থিত কেন্দ্র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়ে তাঁদের মতামত তুলে ধরেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ফাজিল পাস পরীক্ষা-২০২৫ আগামী ১৫ অক্টোবর শুরু হয়ে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে।