ক্রেতা-বিক্রেতা-কর্মী—সবাই ক্ষুব্ধ, নানা চাপে ফুডপান্ডা

আজহারুল হক ফরাজী

বাণিজ্য

কমিশন ও নানা চার্জে নাজেহাল রেস্তোরাঁ মালিক, কম আয়ে অসন্তুষ্ট রাইডারঅনলাইনে খাবার সরবরাহের জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ফুডপান্ডাকে ঘিরে অসন্তোষ বাড়ছে তিন

2026-10-11T11:17:12+00:00
2026-10-11T11:17:12+00:00
  সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬,
২৭ আশ্বিন ১৪৩৩
 
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
বাণিজ্য
ক্রেতা-বিক্রেতা-কর্মী—সবাই ক্ষুব্ধ, নানা চাপে ফুডপান্ডা
আজহারুল হক ফরাজী
রোববার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৭ এএম 
ক্রেতা-বিক্রেতা-কর্মী—সবাই ক্ষুব্ধ, নানা চাপে ফুডপান্ডা

কমিশন ও নানা চার্জে নাজেহাল রেস্তোরাঁ মালিক, কম আয়ে অসন্তুষ্ট রাইডার

অনলাইনে খাবার সরবরাহের জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ফুডপান্ডাকে ঘিরে অসন্তোষ বাড়ছে তিন দিক থেকে। কমিশন ও নানা চার্জে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন বলে অভিযোগ রেস্তোরাঁ মালিকদের। দীর্ঘ সময় কাজ করেও খরচ বাদে সামান্য আয় নিয়ে ক্ষুব্ধ রাইডাররা। অন্যদিকে, খাবার পৌঁছাতে দেরি, ভুল অর্ডার ও রিফান্ড পেতে ভোগান্তির অভিযোগ করছেন গ্রাহকেরা। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ঘটনায় চাপ আরও বেড়েছে।

রেস্তোরাঁ মালিকদের অভিযোগ, কমিশন, কর ও অন্যান্য চার্জ মিলিয়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিক্রয়মূল্যের প্রায় ৩২ শতাংশ পর্যন্ত কেটে নেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রামের সাদিয়াস কিচেনের অপারেশন ম্যানেজার মাসুদ হাসান কাঞ্চনের হিসাবে, ২০০ টাকার খাবার বিক্রি করে ২৬ শতাংশ কমিশন বাদে থাকে ১৪৮ টাকা। অথচ খাবার তৈরির উপকরণেই খরচ হয় বিক্রয়মূল্যের ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ। বাকি অর্থ থেকে কর্মীদের বেতন, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও অন্যান্য ব্যয় মেটাতে হয়। জটিল ইনভয়েস, অর্ডার বাতিলের ক্ষতি, একতরফা জরিমানা এবং গ্রাহকের অভিযোগ যাচাই না করে টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়েও আপত্তি রয়েছে তাদের। বিক্রির টাকা পেতে ১৩ দিন বা তারও বেশি সময় লাগায় চলতি মূলধনের সংকটও তৈরি হচ্ছে।

এসব অভিযোগে ৬ অক্টোবর থেকে ফুডপান্ডার অর্ডার গ্রহণ বন্ধ রেখেছেন চট্টগ্রাম মহানগরের রেস্তোরাঁ মালিকদের একটি অংশ। বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহানগর শাখার দাবি, কমিশনসহ সব চার্জ সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশে সীমিত করতে হবে। পাশাপাশি স্বচ্ছ হিসাব, ন্যায্য জরিমানা, অর্ডার বাতিলের ক্ষতিপূরণ এবং সাত দিনের মধ্যে বিক্রির টাকা পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে। ফুডপান্ডা কর্তৃপক্ষ ১৫ অক্টোবরের মধ্যে দাবিগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর আশ্বাস দিয়েছে। সমাধান না হলে স্থায়ীভাবে অর্ডার বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

অন্যদিকে, রাইডারদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় কাজ করেও জ্বালানি, যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ ও মোবাইল ডেটার খরচ বাদে হাতে সামান্য অর্থ থাকে। দূরত্বের তুলনায় কম ডেলিভারি চার্জের পাশাপাশি যানজট বা রেস্তোরাঁয় খাবার তৈরিতে দেরি হলেও তাদের জরিমানা ও অ্যাকাউন্ট স্থগিত করা হয়। দুর্ঘটনায় চিকিৎসার ব্যয় নিজেদের বহন করতে হয়; অসুস্থতায় কাজ বন্ধ থাকলে আয়ও বন্ধ হয়ে যায়। তারা ন্যায্য পারিশ্রমিক, দুর্ঘটনাবিমা এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আগে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

গ্রাহকদের অভিযোগ, খাবার দেরিতে পৌঁছানো, ভুল বা অসম্পূর্ণ অর্ডার, আগাম টাকা নিয়েও খাবার না দেওয়া এবং রিফান্ড পেতে দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে সেবার প্রতি আস্থা কমছে। অভিযোগ নিষ্পত্তিতে দ্রুত সহায়তা না পাওয়া নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এসব বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ফুডপান্ডা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছিল।

এদিকে, পান্ডামার্টে পণ্য সরবরাহের পর পাওনা পরিশোধে অনিয়ম, ভুয়া ফেরত চালান এবং বিভিন্ন খাতে অর্থ কর্তনের অভিযোগে করা দুটি মামলায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর ফুডপান্ডা বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দা আমবারীন রেজাসহ পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। মামলায় প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলো আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। ফুডপান্ডার সহযোগী প্রতিষ্ঠান ডেলিভারি হিরো স্টোরস (বাংলাদেশ) অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বিরোধটিকে ব্যবসায়িক লেনদেনসংক্রান্ত বলে দাবি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পেয়েছেন।

রেস্তোরাঁ মালিকদের অভিযোগের বিষয়ে ফুডপান্ডার হেড অব পাবলিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস জাহেদুল ইসলাম ভোরের ডাককে বলেন, আমরা রেস্তোরাঁগুলোর সঙ্গে সরাসরি চুক্তি করে এবং তাদের উদ্বেগ সমাধানে আলোচনা করছি। আর সেবা বন্ধ থাকলে রেস্তোরাঁর বিক্রি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি রাইডারদের আয় কমবে এবং গ্রাহকেরা ভোগান্তিতে পড়বেন। আমরা দ্রুতই সুন্দর সমাধানে পৌছাতে চাই।

সব মিলিয়ে ফুডপান্ডার সামনে এখন আস্থা ফেরানোর চ্যালেঞ্জ। রেস্তোরাঁ মালিকেরা চান স্বচ্ছ কমিশন ও ন্যায্য হিসাব, রাইডাররা চান পরিশ্রমের উপযুক্ত পারিশ্রমিক ও নিরাপত্তা, আর গ্রাহকদের প্রত্যাশা নির্ভরযোগ্য সেবা ও দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি। আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে রেস্তোরাঁ মালিকদের দাবির বিষয়ে সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী আলোচনার অগ্রগতি নির্ধারণ করবে সংকট কোন দিকে মোড় নেয়।



Loading...
Loading...

বাণিজ্য- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: