রাজধানীর বাজারে আমদানিনির্ভর ফলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে মাল্টা, কমলা, আনার, আপেল ও আঙুরের দাম বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতা এবং ডেঙ্গুরোগীর স্বজনরা। সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় রোগীর পথ্য হিসেবে এসব ফলের চাহিদা বেড়েছে, আর একই সময়ে আমদানির সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম আরও বেড়েছে।
বাজারে মাল্টা প্রতিকেজি প্রায় ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, কমলা প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, আপেল মানভেদে প্রায় ৩৫০ থেকে ৪৮০ টাকা, আঙুর প্রতিকেজি ৪৫০ টাকা, আনার প্রায় ৫২০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মাল্টার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সরবরাহ ঘাটতির কারণে দাম বেড়েছে। সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে বলা হয়, কোনো কোনো সপ্তাহে মাত্র ১২ থেকে ২৯টি মাল্টাবাহী কনটেইনার এসেছে, যেখানে দৈনিক চাহিদাই প্রায় ১৫টি কনটেইনার। শ্যামপুর বাজারের পাইকারি বিক্রেতা খালেদ বলেন, বাজারে সরবরাহ কম তাই দাম বেশি। আমদারিকারকরা ঠিকমত আমদানি করতে পারছেন না। আমদানি স্বভাবিক হলে দাম নাগালের মধ্যে আসবে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আমদানিকারকরা উচ্চ শুল্ক, কর, পরিবহন ও অন্যান্য ব্যয়ও মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ। একই সময়ে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের বিশ্লেষণে উচ্চ শুল্ক, মূল্যায়নে বেশি দাম এবং বাজারে অতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতাকেও আমদানিকৃত ফলের উচ্চমূল্যের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আমদানিকারকদের বক্তব্য অনুযায়ী আন্তর্জাতিক পরিবহন ব্যয় এবং বন্দরের বিভিন্ন জটিলতার কারণে ফল দেশে পৌঁছাতে বেশি সময় ও খরচ হচ্ছে। অন্যদিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় মাল্টা, কমলা, আনারসহ বিভিন্ন ফল রোগীর পথ্য হিসেবে বেশি কেনা হচ্ছে। ফলে সরবরাহ সংকটের মধ্যে চাহিদা বাড়ায় বাজারে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। এছাড়াও দক্ষিণ আফ্রিকা ও মিসর থেকে মাল্টার আমদানি মূল্য প্রায় ৭০ সেন্ট বা আনুমানিক ৮৭ টাকা প্রতি কেজি। কিন্তু চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে সেটিই ৪৮০ থেকে ৫২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
রাজধানীর বাইতুল মোকাররম মসজিদের উল্টাদিকে ফলের বাজারে দেখা গেছে, প্রতিকেজি প্রায় ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, কমলা প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, আপেল মানভেদে প্রায় ৩৫০ থেকে ৪৮০ টাকা, আঙুর প্রতিকেজি ৪৫০ টাকা, আনার প্রায় ৫২০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলের দাম নিয়ন্ত্রণে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আমদানিকারকদের দ্রুত এলসি খুলে মাল্টা, খেজুরসহ আমদানিনির্ভর ফলের আমদানি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। সরকার মাল্টার শুল্ক কাঠামো পর্যালোচনার বিষয়টিও বিবেচনা করছে।