পানি নিয়ে দুশ্চিন্তায় ১৮ কোটি মানুষ

সাইদুল ইসলাম

জাতীয়

মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনে নিরাপদ পানি পান করা খুবই জরুরী। কিন্তু রাজধানীসহ সারাদেশে নিরাপদ পানির সম্ভাবনা কমছে। এর অন্যতম কারণ পানি

2026-10-10T12:45:39+00:00
2026-10-10T14:59:27+00:00
  রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬,
২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
 
রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
জাতীয়
শুকিয়ে যাচ্ছে দেশের নদ-নদী
পানি নিয়ে দুশ্চিন্তায় ১৮ কোটি মানুষ
সাইদুল ইসলাম
শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম  আপডেট: ১০.১০.২০২৬ ২:৫৯ পিএম
ছবি : বাসস
মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনে নিরাপদ পানি পান করা খুবই জরুরী। কিন্তু রাজধানীসহ সারাদেশে নিরাপদ পানির সম্ভাবনা কমছে। এর অন্যতম কারণ পানি শুকিয়ে যাওয়া, দখল, দূষণ, পলি জমা ও পানিরপ্রবাহ কমসহ অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে দেশের প্রায় সব নদ-নদী। ফলে নিরাপদ পানি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে দেশের ১৮ কোটি মানুষ। বিশেষ করে ঢাকার নদীগুলোতে পানির চেয়ে বর্জ্য বেশি থাকায় ঢাকার বাসিন্দারা বেশি চিন্তিত। তবে বিশেষজ্ঞরা এরজন্য নদী-খাল দূষণ, ভরাট  এবং নদী তীরবর্তী এলাকা দখল করাকে দায়ী করেছেন। এর থেকে উত্তরণে দ্রুত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নদী খনন ও স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত জরুরি। 

এদিকে, বর্তমাানে পানির চাহিদা মিটাতে ঢাকা ওয়াসা ভূ-পরিস্থ পানির উপর নির্ভরশীলতা বাড়িয়েছে। কিন্তু সাধারন মানুষের চাহিদা বেশি ভূ-গর্ভস্থ পানি। কারণ এ পানি অনেকটাই নিরাপদ। তবে এর স্তর আশঙ্কাজনক হারে নেমে যাওয়ায় ভূ-গর্ভস্থ পানি পাওয়াও দুষ্কর হয়ে পড়ছে। ফলে ঢাকাসহ সারাদেশে নিরাপদ পানির খোঁজে নানা পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে বর্তমান সরকার। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের একের পর এক নদী হারাচ্ছে নাব্যতা, কোথাও কমছে পানির প্রবাহ, আবার কোথাও নদীর বুকজুড়ে জেগে উঠছে বিস্তীর্ণ চর। দখল, দূষণ, পলি জমা, অপরিকল্পিত পানি ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশের নদ-নদীর অস্তিত্ব ও স্বাভাবিক প্রবাহ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষি, মৎস্যসম্পদ, জীববৈচিত্র্য এবং মানুষের জীবনযাত্রায়। সবচেয়ে বড় আশঙ্কা, নদীর পানির প্রাপ্যতা ও গুণগত মান কমতে থাকলে নিরাপদ পানির সংকট আরও তীব্র হতে পারে। এতে দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষের পানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে দুশ্চিন্তা তৈরি হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নদী দখল বন্ধ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, প্রয়োজন অনুযায়ী বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নদী খনন এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি দখল হওয়া নদীর জায়গা উদ্ধার, শিল্পবর্জ্য শোধন বাধ্যতামূলক করা এবং খাল-বিল ও জলাশয় পুনরুদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। নদী খননের ক্ষেত্রে শুধু মাটি অপসারণ নয়, নদীর পরিবেশগত ভারসাম্য ও পানিপ্রবাহের ধরনও বিবেচনায় রাখতে হবে।

বিশুদ্ধ পানির অভাবে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে সারাদেশের মানুষ : এক সময় শুধু ঢাকাতেই বিশুদ্ধ পানির অভাব ছিল। কিন্তু এখন সারাদেশে একই অবস্থ্ াবিরাজ করছে। বিশেষ করে রাজধানীর নদ-নদীগুলোতে পানির বিশুদ্ধতা একেবারে নেই বললেই চলে। ঢাকার নদীগুলোতে এখন পানির চেয়ে বর্জ্যই বেশি দেখা করা যাচ্ছে। সেখান থেকে পানি নিয়ে বিভিন্ন চাহিদা মেটানোতো দূরের কথা এখন মানুষ এসকল ময়লাযুক্ত পানিতে হাত পর্যন্ত ধৌত করতেও দ্বিধাবোধ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীর বেশিরভাগ নদীর পানিই যেকোন কাজে ব্যবহারের অযোগ্য। নদীর পানিতে বর্জ্যরে পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত বেশি। সবমিলে ঝুঁকিতে রয়েছে জনস্বাস্থ্য। ফলে বাড়ছে নানা ধরনের রোগ-ব্যাধি। 

ব্যাপক দূষণের শিকার ঢাকার চারপাশের নদীগুলো : ঢাকার চারপাশের নদীগুলো আগের থেকে দখলদারিত্ব কমলেও ব্যাপক দূষণের শিকার। বিশেষ করে তুরাগের শাখা নদী আগেরমতো দখলের শিকার না হলেও দূষণের মাত্রা কমছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ দূষণের জন্য প্রথমত দায়ী শিল্প-কারখানার দূষণ। এরা প্রতিনিয়ত ব্যবসায়ীক স্বার্থে নদী-জলাধারগুলোকে দূষণ করে যাচ্ছে। রাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট আইন, আদালতের রায় ও সরকারের নির্দেশনার পরও শিল্প-কারখানায় বর্জ্য পরিশোধন প্ল্যান্ট লাগানো হচ্ছে না। এতে নদী-জলাধার দূষিত অব্যাহত রয়েছে। এদিকে, সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক বুড়িগঙ্গাকে মরা নদী নামে অভিহিত করেছে। পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও বিশ্বব্যাংকের গবেষণা অনুযায়ী, বুড়িগঙ্গা নদী দূষণের জন্য ৬০ শতাংশ শিল্পপতিরাই দায়ী। এসব নদী ঘিরে গড়ে উঠেছে হাজারও কারখানা। আর এসবের অধিকাংশে ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) না থাকায় কারখানার উৎপন্ন বর্জ্য প্রকাশ্যে বা মাটির নিচ দিয়ে সরাসরি পড়ছে নদীতে। এছাড়া, চলনবিল, বড়াল নদীসহ সারাদেশের অন্যান্য জলাধারগুলো শুকিয়ে যাওয়াসহ ব্যাপক দূষণ হচ্ছে। যার কারণে নিরাপদ পানি প্রাপ্তি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

নদীমাতৃক বাংলাদেশে নদ-নদী শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ নয় : দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনেরও নদী গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নদীকে ঘিরে গড়ে উঠেছে জনপদ, কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও নৌপরিবহন ব্যবস্থা। কিন্তু অপরিকল্পিত উন্নয়ন, নদী দখল, দূষণ এবং প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহে পরিবর্তনের কারণে অনেক নদীর স্বাভাবিক গতিপথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কোথাও নদীর তলদেশে পলি জমে গভীরতা কমছে, আবার কোথাও অবৈধ স্থাপনায় সংকুচিত হয়ে পড়ছে নদীর প্রশস্ততা। কিছু নদীর প্রবাহ মৌসুমনির্ভর হয়ে পড়েছে, আবার অনেক নদীতে দূষণের মাত্রা বেড়েছে। শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় কোথাও কোথাও নদীর তলদেশ দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। ফলে নদীনির্ভর জনগোষ্ঠীকে পড়তে হচ্ছে নানা সংকটে।

নদী শুকিয়ে যাওয়ার পেছনে একক কোনো কারণ নেই : বিশেষজ্ঞদের মতে,  উজানে পানির প্রবাহের পরিবর্তন, জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলন, নদী দখল, পলি জমে নাব্যতা হ্রাস এবং নদীর স্বাভাবিক গতিপথে বাধা সৃষ্টি, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। পাশাপাশি শিল্পবর্জ্য, পয়োবর্জ্য ও অন্যান্য দূষণ নদীর পানিকে ব্যবহার অনুপযোগী করে তুলছে। নদীর পানির সঙ্গে নিরাপদ পানির সংকটের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বহু এলাকায় পানীয় জল ও দৈনন্দিন ব্যবহারের পানির জন্য মানুষ ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল। নদী ও অন্যান্য জলাশয়ে পানির প্রাপ্যতা কমে গেলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ বাড়তে পারে। অতিরিক্ত পানি উত্তোলনের ফলে বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ শহর ও কিছু কৃষিপ্রধান এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। অন্যদিকে, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার বিস্তার এবং কিছু এলাকায় পানিতে প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট দূষণের উপস্থিতি নিরাপদ পানির প্রাপ্যতাকে আরও কঠিন করে তুলছে। ফলে শুধু পানির পরিমাণ বাড়ালেই হবে না, পানির গুণগত মান নিশ্চিত করাও জরুরি। বিশুদ্ধ পানির অভাবে মানুষকে দূরবর্তী উৎস থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়, বাড়ে সময় ও অর্থের ব্যয়, আর স্বাস্থ্যঝুঁকিও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

নদী শুকিয়ে যাওয়ার প্রভাব পড়ছে কৃষিতেও : সেচের জন্য পর্যাপ্ত পানি না থাকলে কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়ে এবং ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। নদীর প্রবাহ কমে গেলে মাছের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে নদীকেন্দ্রিক ব্যবসা, নৌপরিবহন ও জীবিকার সঙ্গে যুক্ত মানুষের আয়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নদী দখল ও দূষণ বন্ধ, নিয়মিত খননের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষা এবং শিল্পবর্জ্য শোধন নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, পুকুর ও জলাশয় পুনরুদ্ধার, ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ পানি সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়নেও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

নিরাপদ পানির সংকট দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন রূপ নিচ্ছে :  কোথাও পানিতে লবণাক্ততা, কোথাও আর্সেনিক বা অন্যান্য দূষণের ঝুঁকি, আবার কোথাও বিশুদ্ধ পানির উৎসের অপ্রতুলতা মানুষের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে উপকূলীয় ও পানি সংকটপ্রবণ এলাকায় নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদীর পানি কমে যাওয়া এবং নিরাপদ পানির সংকটকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। নদী, খাল, বিল, পুকুর ও ভূগর্ভস্থ পানির উৎস পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব উৎসের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হলে তার প্রভাব পড়ে সামগ্রিক পানি ব্যবস্থাপনায়। তাই শুধু পানি সরবরাহ বাড়ানো নয়, পানির উৎস সংরক্ষণ এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। নদী রক্ষাকে কেবল পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয় হিসেবে দেখলে হবে না। এটি দেশের পানি, খাদ্য, জনস্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। তাই নদী ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আন্তসীমান্ত নদীর পানিপ্রবাহ নিয়ে কার্যকর সহযোগিতা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

নদী শাসনে আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণালব্ধ অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর তাগিদ : নদীভাঙন রোধে স্বল্পমেয়াদি ও পুনরাবৃত্তিমূলক ব্যয়ের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নদী ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণসহ নানা বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে সম্প্রতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির তৃতীয় বৈঠকে। এসময় নদী শাসনে আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণালব্ধ অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর তাগিদ দেওয়া হয়। কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে এই তাগিদ দেওয়া হয়। বৈঠকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার (ওয়ারপো) চলমান কার্যক্রম, সমস্যা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে সংকটপূর্ণ এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপন কমানো, ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধি, ভূ গর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমানো এবং নদীর পানির পুনঃব্যবহার নীতি অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বৈঠকে নদী-খাল-জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি সমন্বিতভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিভিন্ন সংস্থার পৃথকভাবে খাল খননের পরিবর্তে একটি সমন্বিত নীতিমালার আওতায় কার্যক্রম পরিচালনার সুপারিশ করা হয়। 

একইসঙ্গে ডিএনডি এলাকার জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ও পয়ঃনিষ্কাশন সমস্যা সমাধানে কার্যকর মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়। তবে দেশের ১৮ কোটি মানুষের জন্য নিরাপদ পানির খোঁজে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে প্রায় ২ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, আমরা ইউনিসেফের সঙ্গে কথা বলেছি কীভাবে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের কাছে আমরা নিরাপদ পানি পৌঁছে দিতে পারি। পানি ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই পানি যদি দূষিত হয়, জীবাণুপূর্ণ হয়, তাহলে কিন্তু এই পানি মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে উঠতে পারে। কাজেই একদিকে পানি যেমন মানুষের জীবনের জন্য অপরিহার্য, অন্যদিকে এই পানি আবার মৃত্যুর কারণ হতে পারে। মন্ত্রী বলেন, আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যাতে বাংলাদেশে ১৮ কোটি মানুষের কাছে আমরা নিরাপদ পানি পৌঁছে দিতে পারি। সেই চ্যালেঞ্জ নিয়েই আমরা কাজ করছি। তিনি বলেন, নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। আমাদের যে উজান, নদীর উজানগুলোতে পানি প্রত্যাহার করা হচ্ছে। পানি শুকিয়ে যাওয়ার ফলে একদিকে যেমন আমাদের উত্তরের জেলাগুলোতে ডেজারটিফিকেশন হচ্ছে, অর্থাৎ মরুভূমিজনিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। আবার এর দ্বিতীয় একটি প্রভাব রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলে। কারণ সমুদ্রে যে আমাদের নদীবিধৌত বাংলাদেশের ওপর দিয়ে পানিগুলো বঙ্গোপসাগরে যায়, সেই পানির পরিমাণ যদি কমে যায়, তাহলে সমুদ্রের পানির যে লবণাক্ততা, তখন তাওপরের দিকে উঠতে থাকে। যে কারণে আমাদের দক্ষিণাঞ্চলে বিগত কয়েক দশক ধরে পানি প্রত্যাহারের কারণে উজানে, সেখানে পানীয় জলের বিরাট সমস্যা দেখা দিয়েছে।  তিনি বলেন, সব বিষয় বিবেচনা করেই আমাদের দায়িত্ব মানুষের কাছে সুপেয় পানি পৌঁছে দেওয়া। সেই উদ্দেশ্যে আমরা কীভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি সেটি নিয়েই পরিকল্পনা করা হচ্ছে। 




Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: