বিশ্বসেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ১১ জন শিক্ষক-গবেষক। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকাশনা সংস্থা এলসেভিয়ারের (Elsevier) প্রকাশিত ২০২৬ সালের World’s Top 2% Scientists তালিকায় তারা স্থান পেয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ অর্জনের মধ্য দিয়ে দেশের বিশেষায়িত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যবিপ্রবি প্রথম এবং দেশের সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সামগ্রিকভাবে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে।
বিশ্বব্যাপী গবেষকদের গবেষণার প্রভাব ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা মূল্যায়নে World’s Top 2% Scientists তালিকা প্রকাশ করা হয়। Scopus-ভিত্তিক এ তালিকা তৈরিতে গবেষকের মোট উদ্ধৃতি (citation), h-index, সহ-লেখক সংশোধিত hm-indexসহ একাধিক গবেষণা-সূচক বিবেচনা করা হয়।
২০২৬ সালের তালিকায় যবিপ্রবি থেকে স্থান পাওয়া ১১ শিক্ষক-গবেষক হলেন—এনার্জি বিষয়ে আমিনুল ইসলাম ও ইমরান খান; ন্যানোসায়েন্স অ্যান্ড ন্যানোটেকনোলজি বিষয়ে মো. সাইফুল ইসলাম; অ্যানালিটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিষয়ে এম. জেড. এইচ. খান; এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস বিষয়ে মো. মশিউর রহমান ও এম. আর. সাইবুর; অপটোইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড ফোটোনিক্স বিষয়ে মো. বিপ্লব হোসেন ও মো. আমজাদ হোসেন; পলিমার্স বিষয়ে তরিকুল ইসলাম; মেডিসিনাল অ্যান্ড বায়োমলিকুলার কেমিস্ট্রি বিষয়ে পার্থ কুমার বিশ্বাস এবং অ্যাপ্লাইড ফিজিক্স বিষয়ে মোহাম্মদ তানভীর আহমেদ।
যবিপ্রবির গবেষকদের জন্য এ স্বীকৃতি এবারই প্রথম নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ৯ জন, ২০২৪ সালে ৩ জন, ২০২৩ সালে ৩ জন, ২০২২ সালে ৩ জন এবং ২০২১ সালে ৪ জন গবেষক এ তালিকায় স্থান পেয়েছিলেন। ফলে ২০২৬ সালে একসঙ্গে ১১ জন শিক্ষক-গবেষকের তালিকাভুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমে ধারাবাহিক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
যবিপ্রবির শিক্ষক-গবেষক ইমরান খান এর আগেও একাধিকবার এ তালিকায় স্থান পেয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, তিনি গবেষণার প্রভাবের ভিত্তিতে ২০২০ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন বছরের Top 2% Scientists তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
এ অর্জন প্রসঙ্গে যবিপ্রবির ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. ফারুক হাসান বলেন, আন্তর্জাতিক এ স্বীকৃতি যবিপ্রবি পরিবারের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। গবেষণায় তৈরি হওয়া অগ্রগতির ধারাকে আরও এগিয়ে নিতে নতুন প্রশাসন গুরুত্ব দেবে। পাশাপাশি শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমে বরাদ্দ অর্থের সুষম ও দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, গবেষণায় যবিপ্রবির ধারাবাহিক সাফল্য অত্যন্ত আনন্দের। এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে রিসার্চ সেলের মাধ্যমে অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণা প্রকল্পেও বিভাগভিত্তিক অর্থায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও প্রকাশনায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
এদিকে যবিপ্রবির ১১ শিক্ষক-গবেষক বিশ্বসেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তাদের অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক এ স্বীকৃতি যবিপ্রবির গবেষণার পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি তরুণ শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের গবেষণায় উৎসাহিত করবে।