সিনেমা ছেড়ে কার্গিলে যোদ্ধা নানা, সেনাদের সঙ্গে কাটিয়েছেন ৬০ দিন

বিনোদন ডেস্ক

বিনোদন

পর্দায় কখনো সেনা কর্মকর্তা, কখনো পুলিশ, কখনো দাপুটে খলনায়ক—বিভিন্ন চরিত্রে দর্শককে মুগ্ধ করেছেন নানা পাটেকর। কিন্তু অভিনয়ের বাইরে তার জীবনের

2026-10-08T15:10:34+00:00
2026-10-08T15:10:34+00:00
  শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬,
২৪ আশ্বিন ১৪৩৩
 
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
বিনোদন
সিনেমা ছেড়ে কার্গিলে যোদ্ধা নানা, সেনাদের সঙ্গে কাটিয়েছেন ৬০ দিন
বিনোদন ডেস্ক
বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১০ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
পর্দায় কখনো সেনা কর্মকর্তা, কখনো পুলিশ, কখনো দাপুটে খলনায়ক—বিভিন্ন চরিত্রে দর্শককে মুগ্ধ করেছেন নানা পাটেকর। কিন্তু অভিনয়ের বাইরে তার জীবনের এমন এক অধ্যায়ও রয়েছে, যা অনেকেরই অজানা। ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের সময় সিনেমার শুটিং থেকে বিরতি নিয়ে সরাসরি সেনাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ৭৫ বছর বয়সে নানা পাটেকরের মৃত্যুর পর তার জীবনের সেই অধ্যায়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। গোয়ায় হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনের পাশাপাশি তার সেনাদের সঙ্গে কাটানো সময়ের কথাও উঠে আসছে।

‘প্রহার’ সিনেমার জন্য তিন বছরের সামরিক প্রশিক্ষণ

ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে নানার সম্পর্ক অবশ্য কার্গিল যুদ্ধের সময় থেকে নয়। ১৯৯১ সালের ‘প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক’ সিনেমায় মেজর প্রতাপ চৌহানের চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তুতি নিতে মারাঠা লাইট ইনফ্যান্ট্রির সঙ্গে দীর্ঘ প্রশিক্ষণ নেন তিনি।

চরিত্রটির জন্য নিজেকে বাস্তবসম্মতভাবে প্রস্তুত করতে প্রায় তিন বছর সামরিক প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল তাকে। এই সময়েই সেনাবাহিনীর জীবন, শৃঙ্খলা ও কঠিন প্রশিক্ষণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হন নানা।

পরবর্তী সময়ে তিনি টেরিটোরিয়াল আর্মির সঙ্গেও যুক্ত হন এবং সম্মানসূচক ক্যাপ্টেন পদমর্যাদা লাভ করেন।

কার্গিল যুদ্ধের সময় সিনেমা ছেড়ে সেনাদের পাশে

১৯৯৯ সালে ভারত-পাকিস্তান কার্গিল সংঘাত শুরু হলে সেনাদের পাশে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেন নানা পাটেকর। এ জন্য তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জর্জ ফার্নান্দেজের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতিও নেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

অনুমতি পাওয়ার পর অভিনয় থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে তিনি কার্গিল অঞ্চলে যান। সেখানে কুইক রিঅ্যাকশন টিম (কিউআরটি)-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেনাদের পাশে ছিলেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি নিয়ন্ত্রণরেখার কাছাকাছি সেনাদের সঙ্গে অবস্থান করেন এবং কঠিন পরিস্থিতিতে তাদের সহযোগিতা করেন।

৭৬ কেজি থেকে ৫৬ কেজি!

কার্গিলের সেই কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা নানা নিজেই একাধিকবার বলেছেন। তার বর্ণনা অনুযায়ী, শ্রীনগরে পৌঁছানোর সময় তার ওজন ছিল প্রায় ৭৬ কেজি। কিন্তু কঠিন পরিবেশ ও যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় কাটিয়ে ফিরে আসার সময় ওজন কমে দাঁড়িয়েছিল প্রায় ৫৬ কেজি।

অর্থাৎ ওই সময়ে প্রায় ২০ কেজি ওজন হারিয়েছিলেন তিনি।

যদিও নানার কার্গিল অবস্থানের সময় নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। কোথাও দুই সপ্তাহের বেশি সময়ের কথা বলা হয়েছে, আবার নানার নিজের বক্তব্যে প্রায় ৬০ দিন সেনাদের সঙ্গে থাকার কথা উঠে এসেছে।

বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিয়েছিল পর্দার নানা পাটেকরকে

সেনাদের সঙ্গে কাটানো সেই সময় নানা পাটেকরের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। যুদ্ধক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করা সেনাদের কঠিন বাস্তবতা খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান তিনি।

পরবর্তী সময়ে সেনাদের আত্মত্যাগ ও দায়িত্ববোধের কথা বলতে গিয়ে নানা বারবার তাদের প্রশংসা করেছেন। তার কাছে দেশের জন্য সেনাদের পাশে দাঁড়ানো ছিল দায়িত্বেরই অংশ।

অভিনেতা হিসেবে তিনি যেমন তীব্র সংলাপ ও শক্তিশালী চরিত্রের জন্য পরিচিত ছিলেন, তেমনি বাস্তব জীবনেও এই অধ্যায় তাকে অন্য এক পরিচয়ে সামনে এনেছে—শুধু পর্দার যোদ্ধা নন, যুদ্ধের সময় সেনাদের পাশে থাকা একজন শিল্পী।

৭৫-এ থামল নানা পাটেকরের পথচলা

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে ‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অব তক ছাপ্পান’, ‘নটসম্রাট’ থেকে ‘ওয়েলকাম’—বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিলেন নানা পাটেকর।

কিন্তু তার জীবনের গল্প শুধু সিনেমায় সীমাবদ্ধ ছিল না। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে উঠে আসা, কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো এবং কার্গিলের সময় সেনাদের সঙ্গে থাকার মতো নানা অধ্যায় মিলিয়েই তৈরি হয়েছিল তার বর্ণময় জীবন।

বৃহস্পতিবার ৭৫ বছর বয়সে সেই জীবনের অবসান হয়েছে। পর্দার নানা পাটেকর আর নেই, তবে সিনেমার বাইরে তার সেই সাহসী ও মানবিক অধ্যায়গুলোও থেকে যাবে মানুষের স্মৃতিতে।


Loading...
Loading...

বিনোদন- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: