
সাংবাদিক কামরুজ্জামান বাবলু ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) স্থায়ী সদস্য এবং জাতীয় দৈনিক ‘এদিন’-এর বিশেষ প্রতিনিধি। তিনি পলিটিক্যাল রিপোর্টার্স ফোরামের (পিআরএফ) সাবেক দপ্তর সম্পাদক এবং রিলিজিয়াস রিপোর্টার্স ফোরামের (আরআরএফ) সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পৃথক বিবৃতিতে ডিআরইউ, পিআরএফ ও আরআরএফের নেতারা এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এক বিবৃতিতে বলেন, একজন সাংবাদিককে পরিকল্পিতভাবে ফাঁদে ফেলে অপহরণ, অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া এবং তাঁর অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর ও উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের হুমকি।
ডিআরইউ নেতারা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং তাঁদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে ব্যাংক লেনদেন, এটিএম বুথের তথ্য, মোবাইল আর্থিক সেবার লেনদেন, ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর ও আইএমইআইসহ সংশ্লিষ্ট সব তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের আওতায় আনার আহ্বান জানান তাঁরা।
বিবৃতিতে ডিআরইউ নেতারা আরও বলেন, সাংবাদিক কামরুজ্জামান বাবলুর পাশে তাঁরা আছেন। তাঁর ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।
অন্যদিকে, পলিটিক্যাল রিপোর্টার্স ফোরামের (পিআরএফ) সভাপতি খোন্দকার কাওছার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ আলী এক বিবৃতিতে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তাঁরা অবিলম্বে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান।
এ ছাড়া আরআরএফের সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ এক যৌথ বিবৃতিতে সাংবাদিক কামরুজ্জামান বাবলুকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি, অপহরণ, হত্যার হুমকি এবং তাঁর ব্যাংক ও বিকাশ-নগদ হিসাব থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ, গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানান।
আরআরএফ নেতারা অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে জড়িতদের শনাক্ত ও দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। একই সঙ্গে ব্যাংকিং লেনদেন, এটিএম বুথের সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) হিসাব, সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বর এবং আইএমইআই নম্বর আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে অনুসন্ধান ও যাচাই করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তাঁরা।
সাংবাদিক কামরুজ্জামান বাবলুর অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে তাঁকে পোস্তগোলা এলাকায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে যাওয়ার পর অস্ত্রের মুখে তাঁকে জিম্মি করা হয়। পরে তাঁর হাত ও চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এ সময় তাঁর ব্যাংক কার্ড এবং মোবাইল আর্থিক সেবা ব্যবহার করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
ডিআরইউ, পিআরএফ ও আরআরএফের নেতারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সাংবাদিক কামরুজ্জামান বাবলু ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।