
সোমবার (৫ অক্টোবর) বিএমইউয়ের মেঘনা ভবনে ‘প্রজননক্ষম ইলিশ সংরক্ষণ উদ্যোগ’ বিষয়ে অংশীজনদের মতবিনিময় সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রিয়ার অ্যাডমিরাল এম নিয়ামত এলাহি।
সভায় জানানো হয়, দেশে ইলিশ উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫ দশমিক ৭১ লাখ মেট্রিক টন থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা কমে ৫ দশমিক ২৯ লাখ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৫ লাখ মেট্রিক টনে নেমেছে। অতিরিক্ত আহরণ, অবৈধ ও ছোট ফাঁসের জাল, মা ইলিশ ও জাটকা নিধন, বটম ট্রলিং, নদীদূষণ, পলি জমা ও জলবায়ু পরিবর্তনকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
উপাচার্য বলেন, ইলিশ রক্ষায় সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষক, জেলে সম্প্রদায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। গুরুত্বপূর্ণ প্রজননস্থলে কোস্ট গার্ডের নজরদারি বাড়াতে বিএমইউ সহযোগিতা করবে বলেও জানান তিনি।
সভায় বিএমইউতে একটি সমন্বয় সেল গঠন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে ফোকাল পারসন মনোনয়নের সিদ্ধান্ত হয়। আগামী ৮ ও ৯ অক্টোবর বিএমইউ, নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের প্রতিনিধিরা মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
এ ছাড়া নিষেধাজ্ঞাকালে ইলিশ ঘাটে সচেতনতা কার্যক্রম, কমিউনিটি তথ্যদাতা নেটওয়ার্ক, জনসমাবেশ ও জেলেদের খাদ্য সহায়তা পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ইলিশের প্রজননক্ষেত্র, জনসংখ্যা ও নদীদূষণ নিয়ে যৌথ গবেষণার প্রস্তাবও উঠে আসে।
সভায় অংশ নেওয়া এনজিও ও জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির প্রতিনিধিরা সরকারের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে পূর্ণ সহযোগিতার অঙ্গীকার করেন।