সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হঠাৎ ছড়িয়ে পড়ল মৃত্যুর খবর! মুহূর্তেই ফোনে ফোনে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। দেশ-বিদেশ থেকে স্বজন, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা ছুটে আসেন খোঁজ নিতে। কেউ কেউ আবার কান্নায় ভেঙে পড়েন। অথচ যার মৃত্যুর খবর ছড়ানো হয়েছে, সেই বরেণ্য অভিনেতা আবুল হায়াত সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন।
নিজের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ায় ভীষণ ক্ষুব্ধ ও বিব্রত এই কিংবদন্তি অভিনেতা। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি ভালো আছেন।
আবুল হায়াত বলেন, “আমি একদম ঠিক আছি। গতকাল থেকে এমন খবর ছড়িয়েছে। প্রথমে বিষয়টি পাত্তা না দিলেও আজ দেখছি, সীমা অতিক্রম করেছে।”
মৃত্যুর গুজবে স্বজনদের উৎকণ্ঠার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশ-বিদেশে থাকা বন্ধু, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা একের পর এক ফোন করেছেন। তাদের কেউ কেউ কান্নাও করেছেন। বিষয়টিকে অত্যন্ত বিরক্তিকর ও বিব্রতকর বলে উল্লেখ করেন তিনি।
‘একজন জীবিত মানুষকে এভাবে মেরে ফেলা যায় না’
গুজব ছড়ানো ব্যক্তিদের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আবুল হায়াত বলেন, যারা এসব খবর ছড়াচ্ছেন, তাদের প্রতি আমি খুবই বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ। একজন জীবিত মানুষকে এভাবে মেরে ফেলা যায় না।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের গুজব শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নয়, তার পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদেরও ভীষণ কষ্ট দেয়।
এর আগেও একাধিকবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবুল হায়াতের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছে। প্রতিবারই বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা।
প্রকৌশলী থেকে অভিনয়ের কিংবদন্তি
১৯৪৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে জন্মগ্রহণ করেন আবুল হায়াত। বাবার চাকরির সুবাদে তার বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামে। পরে বুয়েট থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন।
কর্মজীবনের শুরুতে ঢাকা ওয়াসায় প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দিলেও অভিনয়ের টানে বেশিদিন সেখানে থাকেননি। ১৯৬৯ সালে ‘ইডিপাস’ নাটকের মাধ্যমে টেলিভিশনে অভিনয়ে অভিষেক হয় তার।
এরপর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য নাটক, চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞাপনে অভিনয় করেছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি নির্মাতা ও লেখক হিসেবেও নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন।
১৯৯১ সালের বইমেলায় প্রকাশিত হয় তার প্রথম উপন্যাস ‘আপ্লুত মরু’। পরে ‘নির্ঝর সন্নিকট’, ‘এসো নীপ বনে’, ‘অচেনা তারা’, ‘জীবন খাতার ফুট নোট’ ও ‘জিম্মি’সহ একাধিক বই লিখেছেন তিনি।
দীর্ঘ কর্মজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, একুশে পদকসহ পেয়েছেন নানা সম্মাননা।
ব্যক্তিজীবনে আবুল হায়াতের দুই মেয়ে বিপাশা হায়াত ও নাতাশা হায়াতও শোবিজ অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত। বিপাশা হায়াতের স্বামী অভিনেতা-নির্মাতা তৌকীর আহমেদ।