মাছ ধরা বন্ধ থাকবে ২২ দিন, জেলেদের ঘরে যাবে সরকারি চাল

ভোরের ডাক ডেস্ক

জাতীয়

মা ইলিশ সংরক্ষণে প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেদের জন্য মানবিক সহায়তা হিসেবে ১ হাজার ৬৫৭ মেট্রিক টন

2026-10-03T15:32:29+00:00
2026-10-03T15:32:29+00:00
  রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬,
১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
 
রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
জাতীয়
মাছ ধরা বন্ধ থাকবে ২২ দিন, জেলেদের ঘরে যাবে সরকারি চাল
ভোরের ডাক ডেস্ক
শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩২ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
মা ইলিশ সংরক্ষণে প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেদের জন্য মানবিক সহায়তা হিসেবে ১ হাজার ৬৫৭ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এতে দেশের ৩৮ জেলার ১৬৮টি উপজেলার ৬ লাখ ৪৬ হাজার ২৯০টি জেলে পরিবার সহায়তা পাবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মৎস্য-২ শাখা থেকে গত ২৮ সেপ্টেম্বর জারি করা সরকারি আদেশে এ বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দ অনুযায়ী, প্রতিটি জেলে পরিবারকে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হবে।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ২২ দিন ইলিশ আহরণ বন্ধ থাকবে। আগামী ৬ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। এ সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলে পরিবারগুলোর জীবনযাত্রায় সহায়তা দিতে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হবে।

সরকারি বরাদ্দের তালিকায় ইলিশ আহরণ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জেলার জেলে পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে শরীয়তপুরে ২৬ হাজার ১২৯টি পরিবারকে ৬৫৩ দশমিক ২২৫ মেট্রিক টন, মানিকগঞ্জে ৯ হাজার ২৬২টি পরিবারকে ২৩১ দশমিক ৫৫ মেট্রিক টন এবং রাজবাড়ীতে ৫ হাজার ৫৯২টি পরিবারকে ১৩৯ দশমিক ৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

রাজশাহী বিভাগের জন্য ১৯ হাজার ৪১১টি জেলে পরিবারের বিপরীতে বরাদ্দ হয়েছে ৪৮৫ দশমিক ২৭৫ মেট্রিক টন চাল। এর মধ্যে পাবনায় ৩ হাজার ৫০০ পরিবারকে ৮৭ দশমিক ৫ মেট্রিক টন, বগুড়ায় ১ হাজার ৮৯০ পরিবারকে ৪৭ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন এবং নাটোরে ৭৫০ পরিবারকে ১৮ দশমিক ৭৫ মেট্রিক টন চাল দেওয়া হবে।

অন্যদিকে রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার ১৬ হাজার ১২৬টি জেলে পরিবারের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৪০৩ দশমিক ১৫ মেট্রিক টন চাল। এর মধ্যে কুড়িগ্রামে ৯ হাজার ৬১৬ পরিবারকে ২৪০ দশমিক ৪ মেট্রিক টন এবং গাইবান্ধায় ৬ হাজার ৫১০ পরিবারকে ১৬২ দশমিক ৭৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জেলা প্রশাসকদের বরাদ্দ পাওয়া ভিজিএফের চাল নির্বাচিত ও প্রকৃত মৎস্যজীবীদের মধ্যে নির্ধারিত মানবিক সহায়তা কর্মসূচির নির্দেশিকা অনুসরণ করে বিতরণ করতে হবে। নিবন্ধিত বা কার্ডধারী জেলে ছাড়া অন্য কাউকে এ চাল দেওয়া যাবে না।

সময়ের স্বল্পতার কারণে জেলা প্রশাসকদের বরাদ্দ পাওয়ার এক কার্যদিবসের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে উপ-বরাদ্দ দিতে বলা হয়েছে। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা উপ-বরাদ্দ পাওয়ার দুই কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের অনুকূলে ছাড়পত্র দেবেন।

চাল বিতরণের সময় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বা তাঁর প্রতিনিধি এবং ট্যাগ কর্মকর্তার উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

সরকারি আদেশ অনুযায়ী, মা ইলিশ সংরক্ষণে মাছ ধরা বন্ধের সময় শুরুর আগে অর্থাৎ ৮ অক্টোবরের মধ্যে জেলেদের মধ্যে ভিজিএফের চাল বিতরণ শেষ করতে হবে। পাশাপাশি ৭ অক্টোবরের মধ্যে চাল উত্তোলন ও বিতরণ-সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে হিসাব সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে।

চাল বিতরণ শেষ হওয়ার পর ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রকৃত বিতরণের বিবরণ মৎস্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।

সরকারের এই সহায়তার লক্ষ্য হলো ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা জেলে পরিবারগুলোর খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করা এবং মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রমকে কার্যকর করা।


Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: