আইনের ‘প্রধান কর্তা’র নিয়োগেই বিধি লঙ্ঘন

সোহাগ রাসিফ

শিক্ষা

আইন অনুষদের ‘প্রধান কর্তা’র নিয়োগে একাধিক আইন লঙ্গনের অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। আইন বিভাগের নিজস্ব

2026-09-30T13:55:54+00:00
2026-09-30T13:55:54+00:00
  বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬,
১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
 
বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
শিক্ষা
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়
আইনের ‘প্রধান কর্তা’র নিয়োগেই বিধি লঙ্ঘন
নিয়ম না থাকলেও পালন করছেন একাধিক লাভজনক দায়িত্ব
সোহাগ রাসিফ
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫৫ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
আইন অনুষদের ‘প্রধান কর্তা’র নিয়োগে একাধিক আইন লঙ্গনের অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। আইন বিভাগের নিজস্ব শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও কলা অনুষদভুক্ত সংগীত বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমীকে আইন অনুষদের নতুন ডিন হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এই শিক্ষককে একাধিক লাভজনক প্রশাসনিক দায়িত্বে নিয়োজিত রাখা হয়েছে। যা স্পষ্টত বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন লঙ্ঘন হচ্ছে। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, এর আগে আইন অনুষদের ডিনের দায়িত্ব পালন করছিলেন আইন ও বিচার বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইরফান আজিজ। তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে সংগীত বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমীকে। কিন্তু ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৬’-এর ২২ অনুচ্ছেদের ৫ দফা স্পষ্ট উল্লেখ করছে, অনুষদের অন্তর্ভুক্ত বিভাগগুলোর অধ্যাপকদের মধ্য থেকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ডিন মনোনীত হবেন। কোনো বিভাগে অধ্যাপক না থাকলে ওই বিভাগের জ্যেষ্ঠতম সহযোগী অধ্যাপকই ডিন পদে নিয়োগ পাওয়ার যোগ্য হবেন— এমন স্পষ্ট আইনি বিধান ও নিজ বিভাগে শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও অন্য বিভাগের শিক্ষক এনে বসানোকে আইনের ব্যত্যয় বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

এর সঙ্গে উঠেছে আরেকটি বিধিনিষেধ লঙ্ঘন ও স্বার্থের প্রশ্ন। ২০০৬ সালের বিশ্ববিদ্যালয় আইনের প্রথম সংবিধির ১৭ (২) দফা অনুযায়ী, কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে আর্থিক সুবিধাযুক্ত একাধিক পদে একই সঙ্গে দায়িত্বে রাখার বিধান নেই। অথচ অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী আগে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। একই সঙ্গে শিক্ষক, পরিবহন প্রশাসক ও ভিন্ন অনুষদের ডিনের ত্রিমুখী চাপ সামলাতে গিয়ে ডিনের মৌলিক কাজ এবং শিক্ষার্থীদের পরিবহনসেবার মান ব্যাহত হওয়ার চরম আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ময়মনসিংহ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী এবং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী নায়মুর রহমান দুর্জয় বলেন, একটি বিভাগ এক দশক ধরে চললেও সেখানে অধ্যাপক নিয়োগ না দিতে পারা প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুসারেই নিজ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহযোগী অধ্যাপককে এ পদে নিয়োগ দেওয়া উচিত ছিল। এতে মনে প্রশ্ন জাগে— বিভাগের শিক্ষকরা কি যোগ্য নন, নাকি তারা কোনো নোংরা রাজনীতির শিকার?

সাধারণ শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, অধ্যাপক শাকিল হাসমী অমায়িক ও শিক্ষার্থীবান্ধব হলেও আইন শিক্ষা একটি বিশেষায়িত ও পেশাভিত্তিক ক্ষেত্র। একাডেমিক সহায়তা, ক্যারিয়ার গাইডেন্স ও গবেষণা পরিচালনার জন্য নিজস্ব বিভাগের অভিজ্ঞ শিক্ষকের হাতেই নেতৃত্বের রাশ থাকা প্রয়োজন।

নাম প্রকাশ না করা স্বত্ত্বে বিভাগের একজন প্রভাষক ভোরের ডাককে বলেন, এখানে উপাচার্য বিভাগের উন্নয়নের চেয়ে নিজের স্বার্থ দেখেছেন। তাই অন্য বিভাগ থেকে নিজের বলয়ের শিক্ষক এনে এখানের শীর্ষ চেয়ারে বসিয়েছেন। উপাচার্যের বাইরে তো আমাদের কথা বলার এখতিয়ার নেই।

সমালোচনার মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন ভোরের ডাককে বলেন, জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক না থাকলে সহযোগী অধ্যাপককে ডিন করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু আইন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষককে নিয়ে শিক্ষার্থীদের একাংশের আলোচনা-কানাঘুষা এড়াতেই সাময়িকভাবে অন্য বিভাগের অধ্যাপককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ডিনের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে নির্দিষ্ট বিভাগের শিক্ষক হতেই হবে; এমন বাধ্যবাধকতা নেই দাবি করে উপাচার্য জানান, প্রয়োজন হলে পরবর্তী সময়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় আইনের প্রথম সংবিধির ১৭ (২) দফা অনুযায়ী এই নিয়োগের স্বচ্চতা জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।



Loading...
Loading...

শিক্ষা- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: