রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগিনি প্রপার্টিজে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। হামলাকারীরা পাঁচটি পিকআপে করে এসে গুলি ছুড়তে ছুড়তে হাউজিংয়ের ভেতরে প্রবেশ করে বলে অভিযোগ করেছেন নিউগিনি প্রপার্টিজের এক কর্মকর্তা। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম জানান, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। জমির দখল-বেদখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধের একপর্যায়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আটক তিনজন হলেন ভাষানটেক বস্তির মো. মামুন, মজুমদারের মোড়ের আসলাম ও মুন্না।
নিউগিনি প্রপার্টিজের কর্মকর্তা মো. পল্লব আলী বলেন, হামলাকারীরা পাঁচটি পিকআপে করে এসেছিল। তাঁদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। গুলি করতে করতে তাঁরা হাউজিংয়ের ভেতরে প্রবেশ করেন। প্রবেশমুখের একটি বাড়ির ফ্ল্যাটে ঢুকে লুটপাট চালানোর পর মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন জিনিস নিয়ে যায় হামলাকারীরা।
পল্লব আলীর ভাষ্য, এরপর হামলাকারীরা সালমান কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা–ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে
মুক্তাদিরের স্টুডিওতে গিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। নিউগিনি প্রপার্টিজের অফিসেও হামলা করা হয়। নির্মাণশ্রমিকদের মারধর করে তাঁদের ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এ ঘটনা চলে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীদের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে হামলাকারীরা একটি ফটক ভেঙে সেখান থেকে চলে যায়।
রোববার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওর ভেতরে ভাঙচুরের চিহ্ন। মেঝেতে ছড়িয়ে রয়েছে কাচের টুকরা। ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে সোফা, বাদ্যযন্ত্র, চেয়ার, টেবিল, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম।
এর আগে হামলার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন সালমান মুক্তাদির। সেখানে স্টুডিওর ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, হামলায় স্টুডিওর বিভিন্ন সরঞ্জাম ও ক্লায়েন্টদের গুরুত্বপূর্ণ ফুটেজ ক্ষতিগ্রস্ত বা হারিয়ে গেছে। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি তাঁর কাজেও বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।
সালমান মুক্তাদির বলেন, স্টুডিও ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তাঁরা কাজ বন্ধ করবেন না। নতুন করে কাজ শুরু করার প্রত্যয়ও জানান তিনি।
এদিকে হামলার কারণ নিয়ে সালমান মুক্তাদিরের বক্তব্য এবং পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। সালমান মুক্তাদির এর আগে চাঁদা দাবির অভিযোগ তুললেও পুলিশ বলছে, প্রাথমিক তদন্তে জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।