
শক্তির বিচারে এগিয়ে মালয়েশিয়া, তবে মাঠের লড়াইয়ে সেই ব্যবধান মানতে নারাজ বাংলাদেশ। আগামীকাল ফিফা আসিয়ান কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে টমাস ডুলির দল। জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায়।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে দুই দলের অবস্থানের পার্থক্য ৪৫ ধাপ। বাংলাদেশ ১৮১তম, মালয়েশিয়া ১৩৬তম। কাগজে-কলমে এই ব্যবধানই ম্যাচের কঠিন বাস্তবতার জানান দিচ্ছে। তবে নতুন এই আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের লক্ষ্য শুধু ফলের দিকে তাকিয়ে থাকা নয়; শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য যাচাই করাও।
বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটি আরও গুরুত্বপূর্ণ নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতির কারণে। কোচ টমাস ডুলি আসিয়ান কাপকে সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখছেন। তাঁর পরিকল্পনায় মালয়েশিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ম্যাচ থেকেই নিজেদের দুর্বলতা ও সামর্থ্যের জায়গাগুলো খুঁজে নেওয়া।
বাংলাদেশ দল ইতোমধ্যে জাকার্তায় পৌঁছে অনুশীলন করেছে। প্রবাসী ফুটবলার হামজা চৌধুরী, শমিত সোমে ও ফারহান আলী ওয়াহিদের যোগ দেওয়ায় দলের প্রস্তুতিও পূর্ণতা পেয়েছে। হামজা ২১ সেপ্টেম্বর দলের সঙ্গে যোগ দেন।
ডুলির দলে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেল রয়েছে। অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার সঙ্গে মাঝমাঠে হামজা চৌধুরী ও শমিত সোমে থাকায় বাংলাদেশের শক্তি বাড়ার প্রত্যাশা। আক্রমণভাগে নতুন মুখ ফারহান আলী ওয়াহিদও আলোচনায়। ইংল্যান্ডে বেড়ে ওঠা এই ফরোয়ার্ড প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন।
তবে প্রতিপক্ষও প্রস্তুত। মালয়েশিয়ার দলে সম্প্রতি নাগরিকত্ব পাওয়া ব্র্যাড ট্যাপ, ম্যানুয়েল হিদালগো ও বার্গসনের মতো খেলোয়াড় যোগ হয়েছেন। উইংয়ে আরিফ আইমানও বাংলাদেশের রক্ষণভাগের জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারেন।
ডুলির কাছে তাই ম্যাচের হিসাবটা শুধু জয়-পরাজয়ের নয়। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বাস্তবতার কথা বলেছেন। তাঁর মতে, মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ভালো লড়াই করে ড্র করা কিংবা ১-০ গোলে হারাও বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক ফল হতে পারে। তবে সুযোগ এলে জয় তুলে নেওয়ার স্বপ্নও দেখছেন তিনি।
আসিয়ান কাপের ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের অন্য দুই প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুর। মালয়েশিয়ার পর ২৮ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর এবং ১ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচই হবে জাকার্তার একই ভেন্যুতে।
প্রথম ম্যাচেই তাই বাংলাদেশের সামনে বড় পরীক্ষা। র্যাঙ্কিংয়ের ব্যবধান পেরিয়ে মাঠে কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারে ডুলির দল, সেটিই হবে দেখার বিষয়। ফলের পাশাপাশি শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়াই হতে পারে বাংলাদেশের আসিয়ান কাপ অভিযানের প্রথম সাফল্য।