
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার দৌড় থেকে এখনো ছিটকে যায়নি বাংলাদেশ। বরং নিজেদের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস রেখে ধারাবাহিকভাবে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারলে শীর্ষ দুইয়ে থেকে ফাইনালের টিকিট পাওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন জাতীয় দলের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইনে ঐতিহাসিক জয় এবং পরের টেস্টে ম্যাকেতে হারের পরও টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চলতি চক্রে বাংলাদেশের সামনে সুযোগ রয়েছে। ফাইনালে জায়গা করে নিতে হাতে থাকা ছয় টেস্টের ফলই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশের সামনে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে চারটি টেস্ট। পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে আরও দুটি টেস্ট খেলবে নাজমুল হোসেনের দল। শীর্ষ দুইয়ে জায়গা করে নিতে বাকি ম্যাচগুলোতে যত বেশি পয়েন্ট সংগ্রহ করা যায়, ততই বাড়বে ফাইনালের সম্ভাবনা।
মুশতাক আহমেদের বিশ্বাস, নিজেদের ওপর আস্থা রেখে ইতিবাচক ক্রিকেট খেলতে পারলে শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে থাকা সম্ভব। তিনি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, কেন নয়? আমরা এখন দারুণ অবস্থানে আছি। আমরা যদি ভালো ক্রিকেট খেলি এবং বিশ্বাস ধরে রাখি, তাহলে শেষ পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ আমাদের আছে।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাফল্যের জন্য হারার ভয়কে মাথা থেকে সরিয়ে ফেলার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক এই স্পিনার। তার মতে, ক্রিকেটারদের মানসিকতা বদলাতে কোচদেরও বড় ভূমিকা রয়েছে।
মুশতাক বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ম্যাচ জেতার একমাত্র উপায় হলো হারার চিন্তা না করা। কোচ হিসেবে আমাদের এই মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, দলের ক্রিকেটার, নির্বাচক ও সংশ্লিষ্ট সবাই এখন একই লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। নিজেদের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস থাকলে যেকোনো প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মানসিকতা তৈরি করা সম্ভব বলেও মনে করেন তিনি।
বর্তমানে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। ৬০ শতাংশ পয়েন্ট শতাংশে (পিসিটি) পৌঁছাতে বাকি ছয় টেস্ট থেকে বাংলাদেশের প্রয়োজন আরও ৪৭ পয়েন্ট।
ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চার টেস্টেই জয় পেলে বাংলাদেশের পিসিটি ৬১.১১ শতাংশে উঠবে। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে আরও একটি জয় পেলে তা বেড়ে দাঁড়াবে ৬৯.৪৪ শতাংশে।
তাই ফাইনালের স্বপ্ন বাস্তব করতে বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ঘরের মাঠের চার টেস্টে সর্বোচ্চ পয়েন্ট সংগ্রহ করা। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের ফলও নির্ধারণ করতে পারে ফাইনালের দৌড়ে বাংলাদেশের অবস্থান।