ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার মধ্যেই রোগটির প্রাথমিক লক্ষণ নিয়ে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা থেকে শুরু করে বমি ও শরীরে লালচে ফুসকুড়ি—এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সচেতনতা বাড়াতে এসব লক্ষণ তুলে ধরে সতর্কবার্তা দেয় ডব্লিউএইচও। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গুর সাধারণ উপসর্গের মধ্যে জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, পেশি ও জয়েন্টে ব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি এবং শরীরে ফুসকুড়ি থাকতে পারে।
যেসব লক্ষণে সতর্ক হতে হবে
ডব্লিউএইচওর পরামর্শ অনুযায়ী, ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে দেখা দিতে পারে—
✅ তীব্র মাথাব্যথা
✅ চোখের পেছনে ব্যথা
✅ হাড়ের জোড়া ও পেশিতে ব্যথা
✅ বমি বমি ভাব
✅ বমি
✅ চামড়ায় লালচে ছোট ছোট ফুসকুড়ি
এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে দ্রুত শনাক্তকরণ ও যথাযথ চিকিৎসা গুরুতর জটিলতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ।
একদিনে ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ১ হাজার ৮৬৮
এর মধ্যেই দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৮৬৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২৩ সেপ্টেম্বরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নতুন ছয়জনের মৃত্যু নিয়ে চলতি বছরে দেশে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০১ জনে। আর ১ জানুয়ারি থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৬৭ হাজার ৩৬৭ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, সেপ্টেম্বরের প্রথম ২২ দিনেই ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ১০৪ জন—চলতি বছরের কোনো এক মাসে এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা।
ডব্লিউএইচও বলছে, ডেঙ্গুর উপসর্গ সাধারণত সংক্রমিত মশার কামড়ের ৪ থেকে ১০ দিন পর দেখা দিতে পারে। জ্বর কমে গেলেই বিপদ কেটে গেছে—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়; গুরুতর ডেঙ্গুর সতর্কসংকেত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।