দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৫৯৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনের হিসাবে, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এসব রোগী ভর্তি হন।
নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন ১৭১ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৩২ জন। ঢাকার দুই সিটি এলাকার বাইরে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৩৮৪ জন।
এ ছাড়া বরিশাল বিভাগে ১৫৪ জন, চট্টগ্রামে ১৬৭ জন, খুলনায় ২৯২ জন, ময়মনসিংহে ৮২ জন, রাজশাহীতে ১৩৭ জন, রংপুরে ৬৫ জন এবং সিলেট বিভাগে ৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৫৮৭ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
বছরে মৃত্যু ১৮৪, সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ : নতুন ছয় মৃত্যুর ফলে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮৪ জনে। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই মারা গেছেন ৮৭ জন। মাসভিত্তিক হিসাবে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা।
এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ৬১ হাজার ৯৭২ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫৭ হাজার ৬১০ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।
২০২৩ সালে ছিল ভয়াবহ পরিস্থিতি : স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০০০ সাল থেকে দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর হিসাব সংরক্ষণ করছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল।
ওই বছর ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। একই বছরে ডেঙ্গুতে প্রাণ হারান ১ হাজার ৭০৫ জন, যা এখন পর্যন্ত এক বছরে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড।
এর পরের বছরও ডেঙ্গুর সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য ছিল। ২০২৪ সালে চার শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয় এবং আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন প্রায় ১ লাখ ২ হাজার মানুষ।