হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে টিকার আওতায় আনতে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে মাসব্যাপী বিশেষ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। ‘ইনটেনসিফায়েড এমআর ক্যাচ-আপ ভ্যাকসিনেশন’ নামে এ কার্যক্রম চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী যেসব শিশু চলমান হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইনে টিকা পায়নি বা বাদ পড়েছে, তাদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ক্যাম্পেইনের টিকা গ্রহণের উপযুক্ত নতুন শিশুদেরও এ কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, চলতি বছর দেশে হাম রোগের প্রাদুর্ভাবের পর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও শিশুদের সুরক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত এপ্রিল থেকে পর্যায়ক্রমে হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৯৮ লাখ ৩০ হাজার শিশু টিকা পেয়েছে।
তবে মাঠপর্যায়ের তথ্য, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ইউনিসেফের র্যাপিড কনভেনিয়েন্স মনিটরিং এবং হাম আক্রান্ত শিশুদের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এখনো কিছু শিশু টিকার আওতার বাইরে রয়েছে। বিশেষ করে হাসপাতালে শনাক্ত হাম আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু টিকা নেয়নি বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
এ কারণে টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের চিহ্নিত করতে বিভিন্ন উৎসের তথ্য সমন্বয় করা হবে। ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনের তথ্য, হাম-রুবেলা টিকাদান রেজিস্টার, স্থানীয় মাইক্রোপ্ল্যান, আগের ক্যাম্পেইনের তথ্য এবং মাঠপর্যায়ের মনিটরিংয়ের ফলাফল পর্যালোচনা করা হবে।
বিশেষ কার্যক্রমের আওতায় স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের টিকা গ্রহণের তথ্য যাচাই করবেন। টিকা না পাওয়া শিশুদের তালিকাভুক্ত করে তাদের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগের লক্ষ্য, হাম-রুবেলা টিকার জন্য উপযুক্ত কোনো শিশুই যেন বাদ না পড়ে। মাসব্যাপী এ কার্যক্রমের মাধ্যমে টিকাদানের আওতা বাড়ানোর পাশাপাশি হাম-রুবেলার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখার আশা করছে সরকার।