এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটে বাংলাদেশের লক্ষ্য এবার শুধু অংশ নেওয়া নয়, স্বর্ণপদকের জন্য লড়াই করা। আর সেই লড়াইয়ের শুরুটা ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া দিয়ে করতে চান বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিটন দাস। জাপানে যাওয়ার আগে প্রস্তুতি পর্বে দলের আত্মবিশ্বাসের কথাই জানিয়েছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ, বিশ্বকাপ কিংবা এশিয়া কাপ—এসব প্রতিযোগিতা বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের কাছে পরিচিত। কিন্তু এশিয়ান গেমসের মতো বহুজাতিক ক্রীড়া আসরে জাতীয় দলের হয়ে খেলাটা তাদের জন্য আলাদা অভিজ্ঞতা। লিটনের জন্যও এটি প্রথম এশিয়ান গেমস।
তাই এই আসর নিয়ে দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ রয়েছে বলে জানিয়েছেন অধিনায়ক। তার মতে, নিয়মিত আন্তর্জাতিক ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের বাইরে দেশের জন্য একটি পদক জয়ের সুযোগ খুব ঘন ঘন আসে না। ফলে এশিয়ান গেমসকে বড় একটি সুযোগ হিসেবেই দেখছেন তারা।
লিটনের কথায়, জাতীয় দলের হয়ে খেলাই বড় ব্যাপার। তবে দেশের হয়ে এমন একটি আসরে অংশ নিয়ে স্বর্ণপদকের জন্য লড়াই করার সুযোগ আরও বিশেষ। তাই দলের সবাই এই টুর্নামেন্ট নিয়ে রোমাঞ্চিত।
ফাইনাল আগে, স্বর্ণের স্বপ্ন পরে
বাংলাদেশের সামনে এখন প্রথম লক্ষ্য ফাইনালে পৌঁছানো। লিটনও জানিয়েছেন, এক ম্যাচ করে এগিয়েই শেষ ম্যাচ পর্যন্ত যেতে চান তারা।
তার মতে, ফাইনালে উঠতে পারলে স্বর্ণপদক জয়ের সুযোগ তৈরি হবে। তাই শুরুতেই পদকের হিসাব না করে প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দেওয়াই হবে দলের পরিকল্পনা।
এবার এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পুরুষ ক্রিকেট দল সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে। র্যাঙ্কিংয়ের কারণে এই সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। ২৮ সেপ্টেম্বর কোয়ার্টার ফাইনালে মাঠে নামার কথা রয়েছে লিটনদের। গ্রুপপর্বের ফলের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হবে।
এর আগে ২০১০ সালের গুয়াংজু এশিয়ান গেমসে আফগানিস্তানকে হারিয়ে পুরুষ ক্রিকেটে স্বর্ণপদক জিতেছিল বাংলাদেশ। দীর্ঘ ১৬ বছর পর সেই সাফল্য আবারও ফিরিয়ে আনার সুযোগ এবার লিটনদের সামনে।
অলিম্পিকের স্বপ্নও দেখছেন লিটন
এশিয়ান গেমসের লক্ষ্য ছাপিয়ে লিটনের ভাবনায় আছে আরও বড় একটি মঞ্চ- অলিম্পিক। ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ফিরছে ক্রিকেট। সেখানে খেলার সুযোগ পাওয়া বাংলাদেশের জন্য বড় অর্জন হতে পারে বলে মনে করেন অধিনায়ক।
অলিম্পিকে খেলার প্রসঙ্গে লিটনের বক্তব্য, এমন মঞ্চে খেলতে কে না চায়? তবে এ মুহূর্তে তাদের পুরো মনোযোগ এশিয়ান গেমসে ভালো করার দিকে। জাপানে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স দেওয়ার পরই পরবর্তী লক্ষ্য নিয়ে ভাবতে চান তিনি।
লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ক্রিকেটে মোট ছয়টি দল অংশ নেবে। এশিয়া, আফ্রিকা, ওশেনিয়া ও ইউরোপ থেকে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দলগুলোর সরাসরি সুযোগ থাকবে। স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রও নির্দিষ্ট শর্তে জায়গা পাবে। বাকি একটি জায়গার জন্য বাছাইপর্বের পথ খোলা থাকবে।
বাংলাদেশের জন্য তাই অলিম্পিকে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইও সহজ নয়। তবে সেই সুযোগ পেলে শুধু ক্রিকেট নয়, দেশের অন্য খেলাগুলোর জন্যও তা অনুপ্রেরণার কারণ হতে পারে বলে মনে করেন লিটন।
সাফল্যের প্রভাব ছড়িয়ে দিতে চান অন্য খেলায়
দেশের হয়ে খেলাধুলার মাধ্যমে কিছু অর্জন করাকে বড় দায়িত্ব ও সম্মানের বিষয় হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তার মতে, ক্রিকেট যদি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোনো সাফল্য এনে দিতে পারে, সেই সাফল্যের ইতিবাচক প্রভাব দেশের অন্যান্য খেলাতেও পড়তে পারে।
লিটনের বক্তব্যের সারকথা- দেশের জন্য কিছু করার সুযোগ পেলে সেটি কাজে লাগাতে চান তারা। ক্রিকেটের মাধ্যমে যদি অন্য কোনো খেলাও এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা পায়, সেটিকেও নিজেদের সাফল্যের অংশ হিসেবেই দেখবেন তারা।
এশিয়ান গেমসে তাই বাংলাদেশের পুরুষ ক্রিকেট দলের সামনে একসঙ্গে দুটি লক্ষ্য- পুরোনো স্বর্ণের স্মৃতি ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যতের আরও বড় স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়া। তবে সবকিছুর শুরু হচ্ছে একটি ম্যাচ দিয়েই। লিটনের পরিকল্পনাও তাই সরল- ম্যাচ ধরে এগিয়ে ফাইনালে পৌঁছানো, তারপর স্বর্ণের জন্য লড়াই।