
১৯৮৬ সালের সিউল এশিয়ান গেমসের পর ব্যক্তিগত কোনো ইভেন্টে আর পদক জিততে পারেনি বাংলাদেশ। দীর্ঘ সেই অপেক্ষার অবসান ঘটল এবার উশুতে।
আজ ৫২ কেজি ফাইট ইভেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে জিন্নাতের লড়াই হওয়ার কথা ছিল ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেন্তিনা থারিসার বিপক্ষে। কিন্তু নির্ধারিত ওজনের সীমা অতিক্রম করায় ডিসকোয়ালিফাইড হন ইন্দোনেশিয়ার প্রতিযোগী। ফলে রিংয়ে নামার আগেই সেমিফাইনালে উঠে যান জিন্নাত।
সেমিফাইনালে ওঠার পরই পদক নিশ্চিত হওয়ার কারণ উশুর নিয়ম। এই ইভেন্টে প্রতিযোগীর সংখ্যা ছয়জনের বেশি হলে সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া দুই প্রতিযোগীকে ব্রোঞ্জ দেওয়া হয়। এবার ৫২ কেজি বিভাগে অংশ নিয়েছেন ১৫ জন। ফলে জিন্নাতের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হওয়াই তাঁর পদক নিশ্চিত হওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল।
বাংলাদেশের এশিয়ান গেমস ইতিহাসে ব্যক্তিগত ইভেন্টে সর্বশেষ পদক এসেছিল ১৯৮৬ সালে। বক্সিংয়ের লাইট হেভিওয়েট বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন মোশাররফ হোসেন। এরপর কাবাডি ও ক্রিকেটে দলীয় সাফল্যে পদক এলেও ব্যক্তিগত ইভেন্টে আর কেউ সেই কীর্তি ছুঁতে পারেননি।
চার দশক পর সেই ইতিহাসের পাতায় নতুন নাম লিখলেন জিন্নাত। শুধু আন্তর্জাতিক মঞ্চেই নয়, ঘরোয়া উশুতেও তাঁর দাপট দীর্ঘদিনের। ২০১৯ সাল থেকে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে টানা সাতবার সোনা জিতেছেন নেত্রকোনার এই উশুকা।
এশিয়ান গেমসে বড় আন্তর্জাতিক আসরে অভিষেকেই তাই পদক নিশ্চিত করে ফেলেছেন জিন্নাত। তবে ব্রোঞ্জে সন্তুষ্ট থাকার সুযোগ নেই তাঁর সামনে। আগামীকাল সেমিফাইনালে চীনের প্রতিযোগীর মুখোমুখি হবেন তিনি। সেখানে জয় পেলেই রুপা নিশ্চিত হবে। এরপর ফাইনাল জিততে পারলে চার দশক পর ব্যক্তিগত ইভেন্টে বাংলাদেশের পদকের রং হবে সোনালি।
এবারের এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পদকের সম্ভাবনা রয়েছে আরও কয়েকটি ডিসিপ্লিনে। নারী ক্রিকেট দল ব্রোঞ্জের ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে হেরে গেছে। কাবাডিতেও চলছে কঠিন লড়াই। এর মধ্যেই উশু এনে দিল নিশ্চিত পদকের খবর।
তবে জিন্নাতের অর্জন শুধু একটি পদক পাওয়ার গল্প নয়। ৪০ বছর ধরে ব্যক্তিগত ইভেন্টে যে শূন্যতা ছিল, তাঁর সেমিফাইনালে ওঠার মধ্য দিয়েই সেই দীর্ঘ অপেক্ষার পর্দা নামল।