এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের জন্য দিনটি কেটেছে হতাশায়। কাবাডিতে পদক নিশ্চিতের সুযোগ হাতছাড়া, নারী ক্রিকেটে ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে হার এবং পুরুষ হকিতে টানা দ্বিতীয় পরাজয়—তিন ইভেন্টেই ব্যর্থতার মুখ দেখেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
কাবাডিতে পদকের সমীকরণ কঠিন
পুরুষ কাবাডিতে জাপানের বিপক্ষে জয় পেলেই সেমিফাইনাল নিশ্চিতের পাশাপাশি অন্তত ব্রোঞ্জ পদকও নিশ্চিত হয়ে যেত বাংলাদেশের। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ৪০-৩৭ পয়েন্টে হেরে গেছে মিজানুর রহমান-আল আমিনের দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই ছন্দ খুঁজে পেতে হিমশিম খায় বাংলাদেশ। প্রথমার্ধে একটি লোনাসহ ২২-১৫ পয়েন্টে এগিয়ে যায় জাপান। বিরতির পর ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ।
এই হারে পদকের সমীকরণও কঠিন হয়ে গেছে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে জিততেই হবে বাংলাদেশকে। শুধু জয়ই যথেষ্ট নয়, গ্রুপের অন্য ম্যাচের ফলের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে।
এর আগে দক্ষিণ কোরিয়া ও চাইনিজ তাইপেকে হারিয়ে দুর্দান্ত শুরু করেছিল বাংলাদেশ। ফলে ২০ বছর পর পুরুষ কাবাডিতে পদক জয়ের স্বপ্নও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল। তবে জাপানের কাছে হারে সেই পথ এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।
ক্রিকেটেও মিলল না ব্রোঞ্জ
নারী ক্রিকেটে ফাইনালে ওঠার সুযোগ আগেই শেষ হয়েছিল। তবে ব্রোঞ্জ পদক জয়ের সুযোগ ছিল নিগার সুলতানা জ্যোতির দলের সামনে। সেই সুযোগও কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ৩১ রানে হেরেছে তারা।
নিশিনের কোরোগি স্পোর্টস ক্লাবে প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৪৫ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান। অধিনায়ক ফাতিমা সানা ৩০ বলে তিনটি চার ও তিনটি ছক্কায় সর্বোচ্চ ৪৫ রান করেন।
বাংলাদেশের হয়ে নাহিদা আক্তার, রিতু মনি ও স্বর্ণা আক্তার দুটি করে উইকেট নেন। সানজিদা আক্তার মেঘলা পান একটি উইকেট।
জবাবে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ৪.১ ওভারে ২০ রানেই তিন উইকেট হারায় দলটি। এরপর নিগার সুলতানা জ্যোতি ও শারমিন আক্তার সুপ্তা ৪৭ রানের জুটি গড়লেও রান তোলার গতি বাড়াতে পারেননি। জ্যোতি ২৫ রানে ফিরলে আরও চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
এক প্রান্তে লড়াই চালিয়ে সুপ্তা ৪৫ বলে চারটি চারে ৪৬ রানে অপরাজিত থাকেন। তবে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১১৪ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ। পাকিস্তানের উম্মে হানি ১০ রানে তিন উইকেট নিয়ে জয়ের নায়ক হন।
এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সাফল্য ২০১০ সালে। সেবার আফগানিস্তানকে হারিয়ে পুরুষ দল স্বর্ণপদক জিতেছিল। ২০২৩ সালেও নারী ও পুরুষ—দুই দলই পাকিস্তানকে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জেতে।
হকিতেও বড় হার
পুরুষ হকিতে অবশ্য হতাশার মাত্রা আরও বেড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করার পর এবার স্বাগতিক জাপানের কাছে ৬-১ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ।
গিফু প্রিফেকচারাল গ্রিন স্টেডিয়ামে ‘পুল এ’-এর ম্যাচে প্রথম কোয়ার্টারেই তিন গোল হজম করে বাংলাদেশ। কোসেই কাওয়াবে, কোজি ইয়ামাসাকি ও নারু কিমুরার গোলে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় জাপান।
দ্বিতীয় কোয়ার্টারে জুন ওয়াতানাবে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে ব্যবধান ৪-০ করেন। বিরতির পর কাজুমাসা মাতসুমোতো জাপানের পঞ্চম গোলটি করেন। ৪৪ মিনিটে রাকিন খালেদের গোলে ব্যবধান কিছুটা কমালেও শেষ পর্যন্ত আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি বাংলাদেশ। ৫৮ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে জাপানের ৬-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন কাওয়াবে।
টানা দুই হারে হকি দল এখন কঠিন অবস্থানে। ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।
সব মিলিয়ে এশিয়ান গেমসের এই দিনে তিন ইভেন্টেই হতাশ হতে হয়েছে বাংলাদেশকে। তবে পুরুষ ক্রিকেটে এখনো পদকের আশা বেঁচে আছে। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ অবশ্য গ্রুপ পর্বের ম্যাচ শেষে নির্ধারিত হবে।