ইউক্রেনে সর্বাত্মক সামরিক অভিযান শুরুর পর রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত প্রথম সংসদীয় নির্বাচনে বড় ধরনের জয়ের পথে রয়েছে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দল 'ইউনাইটেড রাশিয়া'। কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনী ও কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হওয়া এই নির্বাচনে চূড়ান্ত ভোটার উপস্থিতি নিবন্ধিত হয়েছে ৫৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। ক্রেমলিন এই নির্বাচনকে মূলত ইউক্রেন যুদ্ধের পক্ষে দেশটির সাধারণ জনগণের সমর্থনের প্রতীক হিসেবেই উপস্থাপন করতে চাইছে।
নির্বাচন চলাকালীন ইউক্রেনের পক্ষ থেকে ব্যাপক ড্রোন হামলা ও ইলেকট্রনিক ভোটিং সিস্টেমে ব্যাঘাত ঘটানোর অভিযোগ তুলেছে রুশ কর্তৃপক্ষ। মস্কোসহ একাধিক অঞ্চলে চালানো এসব হামলায় নির্বাচন কর্মকর্তাসহ অন্তত পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন বলে রাশিয়ার গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। তা সত্ত্বেও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে বলে দাবি কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের।
উল্লেখ্য, রাশিয়া কর্তৃক আংশিক নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনের চারটি বিতর্কিত অঞ্চল এবং ২০১৪ সালে অন্তর্ভুক্ত করা ক্রিমিয়াতেও এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। তবে ইউক্রেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই প্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন উল্লেখ করে নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের একচ্ছত্র প্রভাব এবং প্রকৃত বিরোধী দলের অনুপস্থিতির কারণে স্টেট ডুমায় (পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ) ক্ষমতাসীনদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকা প্রায় নিশ্চিত। অর্থনৈতিক সংকট ও নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ওপর ক্রেমলিনের একচ্ছত্র প্রভাব এই নির্বাচনের মাধ্যমে আরও দৃঢ় হলো।