ছয় কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন খুলনার পাইকগাছা পৌরসভার ‘টাইপ-বি’ পৌর ভবনের কাজ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক বছর পরও শেষ হয়নি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবন বুঝে পাওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৬৫ শতাংশ। অর্থসংকট ও ঠিকাদারের অনুপস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ভবন নির্মাণের চুক্তি হয়। পরে একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর মেসার্স জিয়াউল ট্রেডার্সকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০২২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করে ভবনটি পৌরসভার কাছে হস্তান্তরের কথা ছিল।
তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। বর্তমানে ভবনটির প্রায় ৬৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় আধুনিক পৌর ভবনের পরিবর্তে সেখানে এখন অর্ধসমাপ্ত স্থাপনা পড়ে রয়েছে।
প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা বিল হিসেবে গ্রহণ করেছে। অথচ ভবনের ভৌত অগ্রগতি ৬৫ শতাংশে আটকে রয়েছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হলেও কেন প্রকল্পের অর্থছাড় ও কাজের অগ্রগতি সমন্বয় করে এগোনো গেল না। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটি পড়ে থাকায় এর ব্যয় আরও বাড়বে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। কিছুদিন শ্রমিক ও নির্মাণসামগ্রী দেখা গেলেও পরে আবার কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এতে পৌরসভার প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নাগরিক সেবাতেও ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে।
পৌরসভার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী নুর আহমদ নির্মাণকাজের ধীরগতির বিষয়টি স্বীকার করে জানান, প্রকল্পটি পৌরসভার নিজস্ব তহবিলের অর্থে বাস্তবায়িত হচ্ছে। বর্তমানে পৌরসভার ফান্ডে অর্থ না থাকায় নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।
তবে প্রকল্প শুরুর সময় পর্যাপ্ত অর্থের সংস্থান ছিল কি না, এমন প্রশ্নও উঠেছে। ছয় কোটির বেশি টাকার একটি প্রকল্পের কার্যাদেশ দেওয়ার আগে অর্থের নিশ্চয়তা ও ভবিষ্যৎ অর্থছাড়ের পরিকল্পনা কতটা বাস্তবসম্মত ছিল—এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে, অর্থসংকটের পাশাপাশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে।
পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, সরকারি বাজেটের আওতায় ঠিকাদার যতটুকু কাজ সম্পন্ন করেছিলেন, সে অনুযায়ী তিনি চলতি বিল পেয়েছেন। তবে সরকার পরিবর্তনের পর সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার এলাকা ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকেই প্রকল্পের নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে পৌর ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের দাবি, প্রকল্পটি কেন নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি, অর্থছাড়ের প্রক্রিয়া কীভাবে হয়েছে এবং বর্তমানে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ কী—এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
কয়েক বছর ধরে ঝুলে থাকা প্রায় ৭ কোটি টাকার এই প্রকল্প দ্রুত শেষ করে পৌরবাসীর প্রশাসনিক ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।