দক্ষিণ চট্টগ্রামের লাখো মানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ তৈলারদ্বীপ সেতুতে টোল আদায় কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন বাঁশখালীর সমাজকর্মী ও জুলাইযোদ্ধা মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন। একই সঙ্গে সেতুটিতে টোল আদায়ের উদ্যোগের বিষয়ে উচ্চ আদালতের দেওয়া স্থিতাবস্থার আদেশ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জানান, সম্প্রতি তৈলারদ্বীপ সেতুতে টোল আদায়ের জন্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে দরপত্র আহ্বান করা হয়। গত ৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে ২০২৬-২৭ থেকে ২০২৯-৩০ অর্থবছর পর্যন্ত চার বছরের জন্য সেতুটিতে টোল আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এই উদ্যোগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তিনি উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গত ১৫ সেপ্টেম্বর আদেশ দেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
রিটকারী জানান, আদালত টোল আদায়ের জন্য প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির বৈধতা নিয়ে রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে ওই বিজ্ঞপ্তির আওতায় নতুন কোনো দরপত্র গ্রহণ বা খোলা, দরপত্র অনুমোদন, ইজারাদার নিয়োগ ও ইজারা চুক্তি সম্পাদন এবং সেতু ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে যেকোনো উপায়ে টোল আদায়ের কার্যক্রমের ক্ষেত্রে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন বলেন, তৈলারদ্বীপ সেতু দিয়ে বাঁশখালী ছাড়াও পটিয়া, আনোয়ারা এবং কক্সবাজারের পেকুয়া, মহেশখালী, চকরিয়া ও কুতুবদিয়া এলাকার মানুষ ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। ফলে এই সেতুতে নতুন করে টোল আরোপ করা হলে সাধারণ মানুষ ও পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে।
তিনি বলেন, জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনা করে টোল আদায়ের উদ্যোগের বিরুদ্ধে তিনি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। আদালতের আদেশের সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। কপি হাতে পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তা জমা দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মেনে তৈলারদ্বীপ সেতুতে টোলসংক্রান্ত সব কার্যক্রম বন্ধ রাখার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল নেতা মাহফুজুর রহমান, পরিবহন মালিক ও সংগঠনের নেতা ওয়াজি উল্লাহ, মাহমুদুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, নুরুল ইসলাম কোম্পানি, আবদুল্লাহ আল ইমরান, এহসান উল্লাহ টিটুসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।