ক্ষয়ক্ষতির তহবিল ও অভিযোজন অর্থ চাইতে পারে বাংলাদেশ

সুজন দে

জাতীয়

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ। অথচ বৈশ্বিক উষ্ণায়নে বাংলাদেশের অবদান তুলনামূলকভাবে নগণ্য। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে তুরস্কের

2026-09-19T17:16:00+00:00
2026-09-19T17:16:00+00:00
  রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৫ আশ্বিন ১৪৩৩
 
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয়
কপ৩১
ক্ষয়ক্ষতির তহবিল ও অভিযোজন অর্থ চাইতে পারে বাংলাদেশ
সুজন দে
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৬ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ। অথচ বৈশ্বিক উষ্ণায়নে বাংলাদেশের অবদান তুলনামূলকভাবে নগণ্য। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১-এ জলবায়ু অর্থায়ন, ক্ষয়ক্ষতির তহবিল, অভিযোজন ও প্রযুক্তি সহায়তার দাবিকে গুরুত্ব দিতে পারে বাংলাদেশ। বিশেষ করে প্রতিশ্রুত অর্থের পরিমাণ, অর্থ ছাড়ের গতি এবং তা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে কীভাবে পৌঁছাবে—এসব প্রশ্নে এবার জোর দিতে পারে ঢাকা।

আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর আনতালিয়া এক্সপো সেন্টারে কপ৩১ অনুষ্ঠিত হবে। জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক কাঠামো সনদের ৩১তম এই সম্মেলনকে তুরস্ক বাস্তবায়নকেন্দ্রিক সম্মেলন হিসেবে তুলে ধরছে। এবারের লক্ষ্য আগের সম্মেলনগুলোর প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দেওয়া। সম্মেলনে জলবায়ু অর্থায়ন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সহনশীল নগর ও অবকাঠামো, কৃষি-খাদ্যব্যবস্থা, সবুজ শিল্প এবং ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও প্রতিবেশব্যবস্থার সহনশীলতা গুরুত্ব পাবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কপ৩১-এ যোগ দেবেন।

অর্থায়নেই সবচেয়ে বেশি জোর

বাংলাদেশের জন্য কপ৩১-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হতে পারে জলবায়ু অর্থায়ন। গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ২০৩৫ সালের মধ্যে বছরে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নের লক্ষ্যকে প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত বলে মন্তব্য করেন। তিনি সহজলভ্য ও পূর্বানুমানযোগ্য অর্থায়ন এবং জাতিসংঘের গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড থেকে অর্থপ্রবাহ বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

বাংলাদেশের তৃতীয় জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদানপত্র (এনডিসি ৩.০)-এও জলবায়ু মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। এতে ২০২৬ থেকে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত প্রশমন কর্মসূচি বাস্তবায়নে মোট ১১৬ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯০ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন থেকে আসার কথা।

অভিযোজনের ক্ষেত্রেও অর্থের বড় ঘাটতি রয়েছে। বাংলাদেশের এনডিসি ৩.০ অনুযায়ী, অভিযোজন কার্যক্রম বাস্তবায়নে বছরে ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। এর বিপরীতে ২০২১-২৩ সময়ে আন্তর্জাতিক উৎস থেকে গড়ে বছরে প্রায় ০.৪ বিলিয়ন ডলার এসেছে।

এই বাস্তবতায় আনতালিয়ায় বাংলাদেশ অনুদাননির্ভর ও স্বল্পসুদের অর্থায়ন, সহজ শর্তে অর্থপ্রাপ্তি এবং ঋণের বোঝা না বাড়িয়ে অভিযোজন প্রকল্পে অর্থ দেওয়ার দাবি তুলতে পারে।

ক্ষয়ক্ষতির তহবিল কার্যকর করার দাবি

বাংলাদেশের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হতে পারে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতির তহবিল কার্যকর করা। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, উপকূলীয় লবণাক্ততা ও বাস্তুচ্যুতির মতো ক্ষতির মুখে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো যাতে দ্রুত ও সরাসরি সহায়তা পায়, সে বিষয়ে বাংলাদেশ জোর দিতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও ইতিমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির তহবিলকে প্রতিশ্রুতির পর্যায় থেকে বাস্তব সহায়তার পর্যায়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

অভিযোজনের অর্থ চাইবে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের বাস্তবতায় শুধু কার্বন নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। উপকূলীয় বাঁধ, বন ও ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণ, জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষিতে জলবায়ু অভিযোজন, নিরাপদ পানি এবং জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামোয় বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। এ কারণে প্রশমনের পাশাপাশি অভিযোজনকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার দাবি বাংলাদেশের আলোচনায় থাকতে পারে।

একই সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ও সামনে আসতে পারে।

গত আগস্টে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক পরিবেশ ও জলবায়ু সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের কপ৩১-এর অবস্থান স্থানীয় তথ্য, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও আর্থিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের জ্বালানি ও পরিবেশবিষয়ক কর্মসূচি ব্যবস্থাপক তানজিনা দিলশাদ বলেন, জলবায়ু অর্থায়নের জন্য এমন প্রকল্প প্রয়োজন, যেগুলোর প্রয়োজনীয়তা, সম্ভাব্য ফলাফল ও অর্থনৈতিক ভিত্তি স্পষ্ট। একই সঙ্গে জলবায়ু অর্থায়নের নামে ঋণের বোঝা বাড়ার ঝুঁকি থাকায় নতুন ধরনের অর্থায়নব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের জ্যেষ্ঠ প্রশিক্ষক নাজিফা রাফা জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতিকে নীতিনির্ধারণে আরও স্পষ্টভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তাঁর মতে, জলবায়ুর কারণে বাস্তুচ্যুত সবাই একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হন না। কেউ সাময়িকভাবে, কেউ স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত হন; আবার অনেকে অর্থের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাতেই থেকে যান।

চট্টগ্রামের ওই সম্মেলনে আরও কয়েকজন বিশেষজ্ঞ স্থানীয় জনগোষ্ঠী, কৃষক ও পরিবেশ রক্ষায় কাজ করা নারীদের কাছে আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।

কপ৩১-এর আয়োজক তুরস্কও এবারের সম্মেলনকে প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নের দিকে যাওয়ার সম্মেলন হিসেবে সাজাচ্ছে। ১১ ও ১২ নভেম্বর নেতাদের সম্মেলন এবং ২০ নভেম্বর চূড়ান্ত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

তাই বাংলাদেশের জন্য কপ৩১-এ প্রশ্ন শুধু নতুন প্রতিশ্রুতি আদায় করা নয়। কত অর্থ আসবে, তা অনুদান নাকি ঋণ হবে, কত দ্রুত অর্থ ছাড় হবে এবং শেষ পর্যন্ত তা উপকূল, চর, নদীভাঙন ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষের কাছে কতটা পৌঁছাবে—আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে এসব প্রশ্নই।


Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: