যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত দ্রুত সমাপ্তির দিকে এগোচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে সেই চুক্তি কীভাবে এবং কখন হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে নর্থ ক্যারোলাইনার গ্যাস্টোনিয়ায় রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলির নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেন ট্রাম্প। সেখানেই ইরান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংঘাতের শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোর আশা করছেন তিনি। একই সঙ্গে জানান, ইরান একটি চুক্তি করতে চাইছে এবং বিষয়টি কীভাবে এগোয়, তা এখন দেখার বিষয়।
ইরান সমঝোতায় আগ্রহী—এমন দাবি ট্রাম্প এর আগেও করেছেন। গত কয়েক মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যোগাযোগ ও আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
এদিকে সংঘাতের প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে জ্বালানি ও বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ার চাপ তৈরি হয়েছে। মূল্যস্ফীতি, শুল্ক এবং জ্বালানির ব্যয় নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগের মধ্যে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান প্রার্থীদের ওপরও রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে।
সমাবেশে ট্রাম্পের ইরান নীতির প্রতি সমর্থন জানান মাইকেল হোয়াটলি। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের পাশাপাশি নর্থ ক্যারোলিনার জনগণের স্বার্থকেও তিনি অগ্রাধিকার দেবেন।
জ্বালানির দাম কমানোর প্রসঙ্গে হোয়াটলি বলেন, ডিজেলের মূল্য কমাতে তারা নিয়মিতভাবে কাজ করবেন। তবে সংঘাত পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই জ্বালানির দাম কমানো সম্ভব কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি তুলে ধরেন।
হোয়াটলির বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা তা মোতায়েন করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করাই ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপের অন্যতম লক্ষ্য।
এর আগে গত সপ্তাহে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটতে পারে। নতুন মন্তব্যে সেই অবস্থানেরই ধারাবাহিক ইঙ্গিত পাওয়া গেল।