মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত বিচারিক সেবা নিশ্চিত করতে খাগড়াছড়ি চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চালু করা হয়েছে ‘সামারি ট্রায়াল’ বা সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতি। চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাইন বিল্লাহর দিকনির্দেশনায় পরিচালিত এ উদ্যোগের আওতায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলাসহ আইন অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত বিচারের উপযোগী বিভিন্ন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।
আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর চলতি বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেড় মাসেরও কম সময়ে মোট ৩১টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। কোনো কোনো মামলায় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে একই দিনে রায়ও দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। দোষী সাব্যস্ত আসামিদের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী সাজা কার্যকর করা হচ্ছে এবং নির্দোষ ব্যক্তিরা দ্রুত খালাস পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতির ফলে ছোট ও লঘু অপরাধের মামলাগুলো দীর্ঘদিন বিচারাধীন থাকার প্রবণতা কমছে। একই সঙ্গে প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকা থেকে বিচারপ্রার্থীদের বারবার আদালতে আসা-যাওয়ার সময়, অর্থ ও ভোগান্তিও কমছে।
সামারি ট্রায়াল কী?
সামারি ট্রায়াল বা সংক্ষিপ্ত বিচার হলো আইন দ্বারা নির্ধারিত এমন একটি বিচারপ্রক্রিয়া, যেখানে নির্দিষ্ট ধরনের অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর মামলার ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার পরিবর্তে আইনসম্মত সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে দ্রুত শুনানি ও নিষ্পত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। তবে কোন মামলা এ পদ্ধতিতে বিচারযোগ্য হবে, তা সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান ও আদালতের এখতিয়ারের ওপর নির্ভরশীল।
দ্রুত বিচার নিশ্চিতে ভূমিকা
খাগড়াছড়ি চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে মাদকসহ সংক্ষিপ্ত বিচারের উপযোগী মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে একদিকে মামলার জট কমানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিন বিচারাধীন থাকার কারণে আসামি ও বিচারপ্রার্থীদের যে ভোগান্তি হয়, সেটিও কমছে।
আদালত-সংশ্লিষ্টদের মতে, ছোট ও লঘু অপরাধের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হলে বিচারকরা গুরুতর ও জটিল মামলাগুলোতে আরও বেশি সময় ও মনোযোগ দিতে পারবেন। ফলে সামগ্রিক বিচার কার্যক্রমে গতি আসার পাশাপাশি বিচারপ্রার্থীদের আস্থাও বাড়তে পারে।
প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য দ্রুত বিচার পাওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে যে সময় ও অর্থ ব্যয় হয়, সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতির মাধ্যমে তার একটি অংশ কমানো সম্ভব হচ্ছে।
খাগড়াছড়ির কয়েকজন আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আইনসম্মতভাবে সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতির কার্যক্রম নিয়মিত ও কার্যকরভাবে পরিচালিত হলে এটি জেলার বিচার ব্যবস্থায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুকরণীয় উদ্যোগ
খাগড়াছড়ি চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৩১টি মামলা নিষ্পত্তির উদ্যোগকে বিচারপ্রক্রিয়ায় গতি আনার একটি কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আইন ও বিধি অনুসরণ করে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে মামলার জট কমানো এবং বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত বিচারিক সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।